নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, ঘর-সংসারও নেই। তাই যেখানে রাত সেখানেই কাত। তবু নাড়ি ছেঁড়া ধনকে বুকে আগলে রাখতে চান। কাউকে দেবেন না ফুটফুটে নবজাতক ছেলেকে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নদী বন্দরের দুই নম্বর গেটের সামনে ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসব করেছেন ৩০-৩৫ বছরের মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। নিজের নাম মায়া বেগম বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি বলতে পারছেন না সন্তানের বাবা কে, কোথায় তার বাড়ি।
বরিশাল সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন অফিসার (মহানগর) শ্যামল সেন বলেন, কোতোয়ালি মডেল থানা এবং সমাজসেবার উদ্যেগে ওই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক রুমা পারভীন জানান, সন্ধ্যায় নবজাতকসহ ওই নারীকে নৌ-বন্দরের কাছেই ভাটারখাল ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা আ. মালেকের বাসার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র, খাবার এবং ওষুধ দেওয়া হয়েছে। নবজাতক ও প্রসূতির দেখভাল করছেন স্থানীয় বিটপুলিশের সদস্য তানিয়া বেগম।
তানিয়া বেগম বলেন, ৮-১০ বছর ধরে নৌ-বন্দরে থাকেন এ নারী। নাম বলেন মায়া বেগম। ঠিকানা বলেন নগরীর কউনিয়া পুরানপাড়া। তবে আচরণ ও কথাবার্তায় বোঝা যায় তিনি (নারী) অপ্রকৃতস্থ। সন্তান লালন-পালনের সক্ষমতাও তার নেই। তবে সে সন্তানকে কিছুতেই হাতছাড়া করতে রাজি না।
বরিশাল নৌ বন্দর এলাকার হোটেল শ্রমিক রুহুল আমিন জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে নদী বন্দর এলাকায় প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন ওই নারী। তখন পার্শ্ববর্তী ভাটারখাল কলোনির মহিলাদের খবর দেওয়া হয়। সেখান থেকে কয়েকজন নারী এসে সন্তান প্রসবের জন্য ভারসাম্যহীন ওই নারীকে সহায়তা করেন। পরে তিনি একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ওই নারীকে খাবার ও বিছানাপত্র দেওয়া হয়।
রুহুল আমিন জানান, একাধিক নিঃসন্তান দম্পতি নবজাতককে নিতে চাইলেও ওই নারী দিতে চাইছেন না, বরং বুকে আগলে রাখছেন। পরিচয় জানতে চাইলে নারী শুধু নিজের নাম মায়া ছাড়া আর কিছু বলতেও পারছেন না। ফুটফুটে শিশুটিকে একটু দেখার জন্য সকাল থেকে নৌ-বন্দরে অনেকে এসেছেন। মানুষ দেখলেই ওই নারী নবজাতককে বুকে আগলে ধরেন, কেউ যেন নিয়ে যেতে না পারে।