এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এতে প্রত্যাশিত ফল না এলে তা আবার যাচাইয়ের আবেদন করতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৪-২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট
(www.educationboardresults.gov.bd) ও রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ওয়েবসাইটে জানা যাবে। এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ কী?
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দিন থেকে বাংলাদেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড ফলাফল আশানুরুপ না হওয়াতে শিক্ষার্থীদের মনে যদি অনিশ্চয়তা থাকে তাদের অনিশ্চয়তা দূর করতে খাতা পুনঃনিরীক্ষণ এর সুযোগ দিয়ে থাকে যা ‘ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ’, ‘বোর্ড চ্যালেঞ্জ’, ‘ফলাফল পুনঃমূল্যায়ন’, ‘HSC Rescrutiny Process’ ইত্যাদি নামে পরিচিত। অনেকের ধারণা বোর্ড কর্তৃপক্ষ খাতা পুনঃমূল্যায়ন করে। কিন্তু আসলে এই প্রক্রিয়ায় বোর্ড থেকে যা করা হয় তা হলো, নম্বর গণনা কিংবা কোথাও নম্বর প্রদানে ভুল ভ্রান্তি হয়েছে কিনা সেসব বিষয় মিলিয়ে দেখা হয়।
কীভাবে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ করবেন?
ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ করতে শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। চাইলে ঘরে বসে মোবাইল থেকেই ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ এর জন্যে আবেদন করতে পারবেন। তার জন্যে যা যা লাগবে-
টেলিটক সংযোগ সহ একটি মোবাইল ফোন। ( শুধুমাত্র টেলিটক আপারেটর থেকেই ফলাফল পুনঃমূল্যায়ন সম্ভব কিন্তু যাদের টেলিটক সিম নেই তাদের চিন্তার কিছু নেই, তারাও চাইলে অন্য কারো সিম ব্যাবহার করে অথবা ফলাফল পুনঃমূল্যায়ন এর আবেদন করে এ ধরণের কোন দোকান থেকেও আবেদন করতে পারবেন)
মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালান্স (প্রতিটি বিষয়ের আবেদনের জন্যে মোবাইল থেকে আবেদন ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে কেটে নেওয়া হবে।)
- আপনার সঙ্গে যোগাযোগের একটি ব্যক্তিগত নম্বর (বাংলাদেশের যে কোনো অপারেটরের নম্বর দিতে পারবেন)
এইচএসসি রেজাল্ট রিভিউ করতে এসএমএস করবেন যেভাবে-
শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল নাম্বার থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে মোবাইলের Message অপশনে গিয়ে RSC<Space> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <Space> রোল নম্বর <Space> বিষয় কোড লিখে Send করতে হবে 16222 নম্বরে।
উদাহরণ: ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর 123456 হলে এবং পরীক্ষার্থী আবেদন করতে চাইলে message অপশনে RSC Dha 123456 174 Send করতে হবে 16222 নম্বরে। ফিরতি এসএমএস-এ আবেদন বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি PIN প্রদান করা হবে। এতে সম্মত থাকলে ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে RSC <Space> Yes <Space> PIN <Space> Contact Number (যে কোন মোবাইল অপারেটর) লিখে Send করতে হবে 16222 নম্বরে।
উল্লেখ্য, পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে একই এসএমএস এর মাধ্যমে একাধিক বিষয়ের/পত্রের (যে সকল বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে) জন্য আবেদন করা যাবে। সেক্ষেত্রে কমা দিয়ে বিষয়/পত্রের কোডগুলো আলাদা করে লিখতে হবে। যেমন পদার্থ ও রসায়ন দুটি বিষয়ের/পরের জন্য আপনার টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে RSC<Space> Dha < Space> Roll Number <Space> 174,175,176,177 লিখতে হবে।
এছাড়া প্রতি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ) টাকা কেটে নেওয়া হবে। দ্বিপত্র বিশিষ্ট বিষয়ের একটি পত্রে কিংবা দুইটি পত্রে আবেদন করতে পারবে। ম্যানুয়েল কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এর আগে, রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০২১ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১১ বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থী।
এবার সাধারণ ৯টি বোর্ডে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এর মধ্যে সিলেটে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ জন। কুমিল্লায় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৫৩ জন। বরিশালে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ, জিপিও ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৭১ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৯ জন।
চট্টগ্রামে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭২০ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৮৭৮ জন। রাজশাহীতে পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ জন। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী।
২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে ঢাকা বোর্ডে, আর সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে।
এ বছর সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৪০ হাজার ৬৮০ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৫ জন। পাস করেছে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ২৪২ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ১৬৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৬ হাজার ৫৭৯ জন। পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৬৮ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৮৭২ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৭ জন। পাস করেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ জন।
সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। তবে ২০২১ সালে সংশোধিত ও পুনর্বিন্যাস করা সিলেবাসে গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিনটি বিষয়ে মোট ছয়টি পত্রে পরীক্ষা হয়।