ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
খুন করেই ক্ষান্ত নন, পরে গলা কেটে লাশ কার্টনে ভরেন স্বামী-স্ত্রী
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 29 January, 2022, 11:00 AM

খুন করেই ক্ষান্ত নন, পরে গলা কেটে লাশ কার্টনে ভরেন স্বামী-স্ত্রী

খুন করেই ক্ষান্ত নন, পরে গলা কেটে লাশ কার্টনে ভরেন স্বামী-স্ত্রী

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার অজ্ঞাত সেই নারী হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে তারা। গ্রেফতারা হলেন- শেখ মাসুদ ও তার স্ত্রী রেখা।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যা রহস্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, ওই নারীর নাম মর্জিনা আক্তার। তিনি সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর একাই ঢাকায় থাকতেন। মিরপুরে মাসুদের ভাড়া করা বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া থেকে মার্জিনা আক্তার ডেন্টাল হাসপাতালে কাজ শিখছিলেন। মার্জিনা তার স্বর্ণালংকার মাসুদকে দেন বন্ধক রেখে টাকা এনে দেওয়ার জন্য। মাসুদ ওই স্বর্ণালংকার বন্ধক না রেখে তা বিক্রি করে দেন। তিনি মার্জিনাকে জানান ২০ হাজার টাকায় স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা হয়েছে।

ডিসেম্বর মাসে মার্জিনা ২০ হাজার টাকা মাসুদকে ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার দাবি করেন। এ নিয়ে মার্জিনার সঙ্গে মাসুদের কথা-কাটাকাটি হয়।

গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে মাসুদ মার্জিনাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর স্ত্রী রেখার সহায়তায় মরদেহের গলা কেটে কাগজের কার্টনে প্যাকেট করেন। ওইদিন সন্ধ্যার পর একটি সিএনজি ভাড়া করে তাতে মরদেহভরা বস্তাটি নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ওয়াইজনগর গ্রামে একটি খালের পানিতে ফেলে দেন।

হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পর ১৪ জানুয়ারি পুলিশ ওয়াইজনগর থেকে বস্তাভর্তি প্যাকেটটি উদ্ধার করে অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে তা দাফনের ব্যবস্থা করে। সিংগাইর থানায় ক্লু-লেস একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।

ক্লু-লেস এই হত্যা মামলা নিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে মাঠে নামে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিংগাইর থানার এসআই পরিদর্শক আব্দুল হালিম কৌশলে ১১ দিন তদন্ত করে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে শেখ মাসুদ ও তার স্ত্রী রেখাকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মার্জিনা আক্তারকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন মাসুদ। মাসুদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল উদ্ধার করা হয়। নিহতের মোবাইলের সূত্রে ধরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর মার্জিনার ভাই মহিদুর রহমান ও বোন লিপি আক্তার ছবি দেখে শনাক্ত করেন খুন হওয়া অজ্ঞাত ওই নারী তাদের বোন মার্জিনা আক্তার।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান আরও জানান, ১১ দিন পুলিশ পরিশ্রম করে ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেফতারসহ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। শনিবার আসামিদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির জন্য আদালতে তোলা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status