হিব্রু ভাষায় পবিত্র কোরআন অনুবাদের পরিকল্পনা নিয়েছে মিসর সরকার। গত বুধবার (৩০ নভেম্বর) একটি টিভির সাক্ষাতকারে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মিসরের আওয়কাফ বিষয়ক মন্ত্রী মোহামেদ মুখতার গোমা।
টিএন টিভি চ্যানেলের এক সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আবদুল হামিদকে মুখতার গোমা বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা প্রাচ্যাবিদদের অনূদিত কোরআনের আগের কিছু সংস্করণ পেয়েছি। তাতে বেশ কিছু ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে, তা হয়ত ইচ্ছাকৃত কিংবা ভুলবশত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের হিব্রু ভাষায় (মিসরীয়) অধ্যাপকদের একটি অনুবাদ থাকা উচিত। এতে পবিত্র কোরআন সংশ্লিষ্ট ভুল ব্যাখ্যাগুলো সংশোধন করা হবে। যাতে সঠিক অর্থ অনুসরণ করতে আগ্রহী একজন চিন্তাবিদ বা লেখক তা গ্রহণ করতে পারেন।’
আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও অনুবাদ অনুষদের সাবেক ডিন সায়িদ আতিয়াহর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের প্রক্রিয়াটি রয়েছে বলে মুখতার গোমা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা অনেক বই হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করেছি। বিশ্বকে জানতে হবে, আমরা কীভাবে চিন্তা করি। সবাইকে জানাতে হবে, আমাদের ধর্ম কেমন সহনশীল ও বিনম্রতার কথা বলে।’
এদিকে আওকাফ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল্লাহ হাসান বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কোরআন বুঝতে সহায়ক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ, রাশিয়ান, চীনা, উর্দু ও ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় তা প্রকাশিত হয়। এছাড়াও কিছু দিনের মধ্যে গ্রীক ও হাউসায় ভাষায় তা প্রকাশিত হবে।’
অবশ্য এর আগে সৌদি আরবের কিং ফাহদ কমপ্লেক্স অন্যান্য ভাষার মতো পবিত্র কোরআনের একটি হিব্রু অনুবাদ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু একজন ফিলিস্তিনি গবেষক তাতে তিন শয়ের বেশি ভুল সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তা নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বের ১৪ মিলিয়ন ইহুদি হিব্রু ভাষায় কথা বলেন। আর প্রায় ৯ মিলিয়ন ইহুদি বর্তমানে ইসরায়েলে বসবাস করছেন।