|
ঢাকা শহরে জমির দাম সরকার নির্ধারণ করে যেভাবে
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
ঢাকা শহরে জমির দাম সরকার নির্ধারণ করে যেভাবে এই বিধিমালা অনুযায়ী, ব্যক্তি মালিকানাধীন কোন জমির উপরে স্থাপিত কোন স্থাপনা, ইমারত, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তরের দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে হস্তান্তরকারী যে মূল্য দিবেন সেটিকেই বাজার মূল্য হিসেবে ধরতে হবে। তবে এই মূল্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য ১৫০০ টাকার কম হবে না। সরকারিভাবে জমির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত যেসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এগুলো হচ্ছে- ১. জমির অবস্থান: ঢাকা শহরে জমির দাম নির্ধারিত হয় ওই জমির অবস্থান কোথায় সেটার উপর ভিত্তি করে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহা-পরিদর্শক নৃপেন্দ্র নাথ সিকদার বলেন, একই শহরের বিভিন্ন এলাকায় নানা কারণে জমির দাম ভিন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি বড় বিষয় হচ্ছে জমির অবস্থান। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গুলশানের জমির তুলনায় উত্তরা এলাকার জমির দাম আলাদা। “মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় জমির যে দাম হবে, সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে সরে গিয়ে বিলের ভিতর জমির তো সেই একই দাম হবে না,” বলেন তিনি। ২. জমির শ্রেণী: জমির শ্রেণী হলো মূলত জমির ধরণ। যেমন, বাড়ি করার জমি, বাণিজ্যিক এলাকার জমি বা কৃষিকাজের জমি। এগুলো একেকটা শ্রেণী। এই শ্রেণী অনুযায়ী জমির দামও ভিন্ন হয়ে থাকে। বাড়ি করার জমির তুলনায় কৃষি জমির দাম ভিন্ন হয়। আবার একই শ্রেণীর আলাদা আলাদা জমির দামও আলাদা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে ২০২০ সালে একটি পরিপত্রের মাধ্যমে নিবন্ধন অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় যে, কোন মৌজার কোন অংশে বাজার, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ বা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলে তার আশপাশের জমির মূল্য একই মৌজার একই শ্রেণীভুক্ত অন্য জমির তুলনায় বেশি হয়। কিন্তু বর্তমানে যে পদ্ধতিতে জমির বাজারদর নির্ধারণ করা হয়ে তাতে সব জমির দাম একই হয়। এই সমস্যাটি সমাধানে মৌজাসমূহকে গুচ্ছ বা ক্লাস্টারে ভাগ করে সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কথা জানায় নিবন্ধন অধিদপ্তর। এছাড়া রাজধানীতে কোনো এলাকায় নাগরিক সুবিধা কতটুকু সেটার উপর ভিত্তি করেও অনেক সময় জমির দামে তারতম্য হয়। তবে নগর পরিকল্পনাবিদেরা মনে করেন যে, জমির দাম নির্ধারণের আরো কয়েকটি বিষয় রয়েছে যেগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। ৩. মাটির গঠন: নগরবিদ এবং বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম বলেন, কোন একটি জমির গঠন কেমন অর্থাৎ সেটি উঁচু নাকি নিচু সেটির উপরও জমির দাম কত হবে সেটা নির্ভর করে। তিনি বলেন, যেসব জমিতে ভবন তুলতে হলে মাটি ভরাট করতে হয় কিংবা নদী, খাল-বিল বা জলাভূমি ভরাট করে যেসব জমি তৈরি করা হয় সেগুলোর দাম তুলনামূলক কম হয়। কারণ এসব জমির উপর ভবন নির্মাণে একদিকে যেমন বেশি খরচ হয় অন্যদিকে তেমনি এসব ভবনে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া যেসব জমি ভৌগলিকভাবে কিছুটা উঁচু এলাকায় অবস্থিত সেগুলোর দাম বেশি থাকে। এই কারণেই গুলশান, বনানি, ধানমণ্ডি এলাকার জমির দাম বেশি কারণ এগুলো কিছুটা উঁচু এলাকায়(এলিভেটেড ল্যান্ড) অবস্থিত। ৪. দূরত্ব: মিজ ইসলাম বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে জমিটা কতদূরে অবস্থিত সেটির উপরও জমির দাম নির্ভর করে। ঢাকার ক্ষেত্রে বলা হয়, মতিঝিল বা বাণিজ্যিক এলাকা থেকে জমিটা যত দূরে অবস্থিত হয় জমির দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ৫. নাগরিক সুবিধা: রাজধানীতে কোনো এলাকায় নাগরিক সুবিধা কতটুকু সেটার উপর ভিত্তি করেও অনেক সময় জমির দামে তারতম্য হয়। মিজ ইসলাম বলেন, কোন জমির পাশে রাস্তা কতটা প্রশস্ত সেটার উপরও দাম নির্ভর করে। রাস্তা যত বেশি প্রশস্ত হয় দাম তত বেশি হয়। এছাড়া জমির পাশে কোন লেক, খেলার মাঠ, হাসপাতাল, স্কুল আছে কিনা- সেসব বিষয়ও জমির দামের উপর প্রভাব ফেলে। তবে রাজধানীর পুরনো এলাকা বা পুরনো ঢাকার জমির ক্ষেত্রে এসব যুক্তি কাজ করে না বলে জানান তিনি। এই নগরপরিকল্পনাবিদ বলেন, “পুরনো ঢাকায় জমির দাম এমনিতেই বেশি। এটার ক্ষেত্রে কোন সূত্র কাজ করে না।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
