আনন্দটা রূপ নিয়েছিল উদ্দামতায়। ৫৫ বছর পর বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠা বলে কথা, ইংলিশ সমর্থকেরা আনন্দের আতিশয্যে একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছিলেন। লন্ডন পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কাল রাতেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার শঙ্কায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন সমর্থককে।
কাল রাতে ডেনমার্ককে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরো ২০২০–এর ফাইনালে উঠে গেছে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড দল। ফাইনাল তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও এবারের ইউরোতে দারুণ খেলা ইতালি। ১৯৬৬ সালে ববি মুর, জ্যাক চার্লটন, জিওফ হর্স্টদের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর পেরিয়ে গেছে ৫৫ বছর। ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ দেশ হওয়া সত্ত্বেও কোনো সাফল্যই ছিল না ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপ কিংবা ইউরো—প্রতিবারই ইংল্যান্ডের গল্পটা হতাশারম না পাওয়ার বেদনার। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও চূড়ান্ত সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইংলিশরা। কিন্তু সেমিতেই বিদায় নিতে হয়েছিল সেবার। আনন্দ বাঁধ মানছিল না ইংলিশদের।
এবারের ইউরোর ফাইনালে ওঠাটা তাই ইংলিশদের জন্য বিরাট উপলক্ষই। কাল ডেনমার্কের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জেতার পরপরই লন্ডনের রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচলই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মধ্য লন্ডনের পিকাডেলি সার্কাসের রাস্তাঘাট আটকে আনন্দ-উল্লাসে মেতেছিলেন সমর্থকেরা। গাড়ির ওপর উঠে নাচানাচি তো ছিলই। ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শহরের টেলিফোন বুথগুলোর ওপরে উঠেও অনেককে লাফালাফি করতে দেখা যায়। পুলিশে হস্তক্ষেপে অবশ্য পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারেনি।
লন্ডন পুলিশ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, ‘রাস্তাঘাটের শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে কমপক্ষে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে দ্রুতই।’
সেমিফাইনাল জেতার পরই এ অবস্থা। ফাইনালে জিতে গেলে কী হবে—সেটা একটা প্রশ্ন।