চীনে একদল হাতি পাঁচশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ায় নতুন করে হাতির বুদ্ধি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের কোথাও কোনো হাতির দল এতো লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে বলে আগে কখনো জানা যায়নি।
বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ মনে করছেন এর পেছনে জেনেটিক কারণও থাকতে পারে।
তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হাতির স্থান পরিবর্তনের পেছনে একটা কারণ থাকে। কিন্তু চীনের হাতিগুলোর স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেন এই হাতিগুলো এত লম্ব পথ পাড়ি দিয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর এখন আমাদের খুঁজতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, চীনের ওই হাতিগুলোর পূর্বপুরুষের কেউ হয়তো দেশ ত্যাগ করে পরিযায়ী হয়েছিল, কিংবা তাদের মধ্যে ভ্রমণের কিছু ব্যাপার ছিল যার জিন তারা হয়তো বংশ পরম্পরায় পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কোনো হাতি মারা যাওয়ার পর অন্য হাতিরা মানুষের মতোই শোক প্রকাশ করে। তাদের একজন তখন শব্দ করে শোক জানায় এবং বাকিরা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার আনন্দ উৎসবেও তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। আমাদের বাচ্চারা যেমন করে, হাতির বাচ্চারাও কিন্তু পানি নিয়ে খেলা করে।
কয়েক বছর আগে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে দুটো হাতি হাঁটতে হাঁটতে পদ্মা নদী পার হয়ে বাগেরহাটে চলে এসেছিল। এরপর ভারতীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে হাতি দুটোকে অচেতন করে ট্রাকে তুলে ভারতে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের মধ্যে প্রচলিত অভ্যাসগুলো প্রাণীদের মধ্যে থাকতে পারে। এজন্যই তারা মানুষের মতো আচরণ করে থাকে। মানুষের মতো হাতিও সামাজিক জীব। মানুষের সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে যা কিছু ঘটে, হাতির সমাজে এবং জীবনেও তার প্রায় প্রতিটি ঘটনাই ঘটে। হাতিও দলবদ্ধ প্রাণী। এখন হাতি আমাদের থেকে শিখছে নাকি হাতির কাছ থেকে আমরা শিখছি সেটা বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে।
তবে মানুষ নিশ্চয়ই হাতির কাছ থেকে শিখেছে। কারণ হাতি আমাদের কয়েক কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এসেছে। হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল প্রাণী। হাতির মস্তিষ্কও সবচেয়ে বড়। মানুষের যতো নিউরন আছে তার চেয়েও তিনগুণ বেশি আছে হাতির মাথায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাতির এই বুদ্ধি কতখানি- মানুষ হয়তো সেটা পরিমাপ করতে পারেনি। তাদের অধিকার সম্পর্কেও মানুষ সচেতন হয়নি। সেকারণেই কখনও কখনও হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হাতি পরোপকারী একটি প্রাণী। তাদের ভেতরে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করার আগ্রহ অত্যন্ত প্রবল। তাদের স্মরণশক্তিও খুব প্রখর। বিশ্বখ্যাত প্রাণীবিজ্ঞানী ইয়েন ডগলাস হ্যামিলটন হাতির ওপর গবেষণার জন্যে সুপরিচিত। হাতি সংরক্ষণে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও পেয়েছেন তিনি।
দেখা গেছে ডগলাস হ্যামিলটন যেসব বুনো হাতি নিয়ে কাজ করতেন তারা হয়তো কখনও তেড়ে গিয়ে মানুষকে আহত করেছে, কিন্তু হ্যামিলটনের সঙ্গে তাদের ঠিকই বন্ধুত্ব হয়েছে। তাদের সঙ্গে তিনি ছবি তুলছেন। হ্যামিলটন যখন বিয়ে করেছেন তখন তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই হাতির সঙ্গে ছবি তুলেছেন। পরে সন্তান হলে সেই সন্তানকে নিয়েও তিনি সেই হাতিদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে হাতি বন্ধুত্বের সম্পর্ক বুঝতে পারে।
এক হিসেবে দেখা গেছে একশ বছর আগে আফ্রিকাতে হাতির সংখ্যা ছিল ১০ কোটি। এশিয়াতে ছিল এক লাখ। এখন আফ্রিকাতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে চার লাখের কিছু বেশি আর এশিয়াতে ৪০ হাজার।