|
সম্পত্তি নিতে মাকে পেটালো ছেলে
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() সম্পত্তি নিতে মাকে পেটালো ছেলে বুধবার (৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে আবারও মাকে বেধড়কভাবে পিটিয়েছেন ছেলে। এখন ছেলের বিচার চাইতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কমলা ঘোষ। অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের ঝড়গাছা গ্রামে। কমলা ঘোষ ওই গ্রামের মৃত ফণীন্দ্র ঘোষের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, মারপিটের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের কাছে বিচার দাবি করেন কমলা ঘোষ। কিন্তু ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ ঘোষ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেননি। এরপর বৃদ্ধা পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজারে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে কাঁদতে কাঁদতে বিচার দাবি করেন। কমলা ঘোষ বলেন, আমাকে ছেলে ও ছেলের বউ খেতে দেয় না। আমি আলাদা খাই। তারা বিভিন্ন সময় আমাকে মারে। আগে তিন দিন মেরেছে ছেলে। বউ মেরেছে দুই দিন। বুধবার গলায় গামছা দিয়ে ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে আসে। তারপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর লাঠি দিয়ে মারপিট করে। বুধবার আমাকে খুব মেরেছে। আমি ছেলের বিচার চাই। আমারে শুধু মারে। প্রতিবেশী উত্তম ঘোষ বলেন, বৃদ্ধার ছেলে বিকাশ ঘোষ শহরে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করে। ওই বাড়িতে প্রায়ই ঝগড়া হয়। ছেলে তার মাকে দেখাশোনা করে না, আলাদা রান্না করে খায়। বৃদ্ধার স্বামী মৃত্যুর আগে বসতভিটার কিছু জমি বৃদ্ধার নামে লিখে দিয়ে গেছেন। মূলত এটা নিয়েই ঝগড়া। কমলা ঘোষের ছেলের বউ সুমিত্রা ঘোষ বলেন, তিন বছর আগে আমার শ্বশুর মারা গেছে। জমিটুকু শাশুড়ির নামে লিখে দিছে। সকালে মা-ছেলে ঝগড়া করেছে। বিকাশ খুব ঠান্ডা মানুষ। বুধবার মাথায় রক্ত উঠে গেছে, সে জন্য একটু মেরেছে। আমিও ঠেকাইনি, চুপ ছিলাম। শাশুড়ি এখন কোথায় আছে জানি না। তবে আমি কোনো দিন তাকে মারিনি। এ ব্যাপারে ধানদিয়া ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, কমলা ঘোষ সকালে আমার কাছে এসে বললেন তার ছেলে তাকে মেরেছে। আমি বলেছি বিষয়টি পরে দেখব। ছেলে মাকে খেতে দেয় না, এটা জানি। তবে মারপিটের ঘটনা আমি আজ প্রথম শুনেছি। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
