বিশ্বনেতাদের নিন্দা আর তোপের মুখে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডবে বিস্মিত বিশ্ব নেতারাও। সবাই এ ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের উস্কে দেয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম ও টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন ইতিহাসের চরম লজ্জাজনক এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো পুরো বিশ্ব। গত ২শ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা ক্যাপিটল হিলে ঘটেনি। এর পরপরই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়েছেন এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ ঘটনাকে লজ্জাজনক দৃশ্য বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
রিপাবলিকান দলীয় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল কোনো দেশে এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলকে বিতর্কিত করা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমনটা হতে পারে না।
এক বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইতিহাস ক্যাপিটলের ওপর এই আক্রমণকে মনে রাখবে। এ ঘটনা প্রচণ্ড অসম্মানের এবং জাতির জন্য লজ্জাজনক।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, গণতন্ত্রের ওপর এই আঘাতের ঘটনায় কানাডীয়রা বিরক্ত।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনা মেনে নেয়া কঠিন, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের সমর্থক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সহিংস প্রতিবাদ মেনে নেয়া যায় না।
জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্ন্দান্দেজ এবং সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা।
শুধু বিশ্ব নেতারা নন, এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এ দিনটি ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে উল্লেখ থাকবে বলে জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ঘটনার পুরো সময় ক্যাপিটল হিলেই অবস্থান করেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্পের ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম ও টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, 'আমি তোমাদের ভালোবাসি।' এর পরপরই ফেসবুক ও টুইটার ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। আর ভিডিও সরিয়ে নেয় ইউটিউব।
ফেসবুক ও টুইটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্পের পোস্টের মাধ্যমে সহিংসতা উস্কে দেয়া হচ্ছে বলে ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করছেন। এজন্য ট্রাম্পের টুইটার ১২ ঘণ্টা এবং ফেসবুক ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে।
টুইটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি ট্রাম্প বিতর্কিত টুইটগুলো মুছে না ফেলে তবে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে।