ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২৬ ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
কাবিন নিয়ে স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত প্রবাসীসহ একাধিক পরিবার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 14 December, 2020, 10:01 AM

কাবিন নিয়ে স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত প্রবাসীসহ একাধিক পরিবার

কাবিন নিয়ে স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত প্রবাসীসহ একাধিক পরিবার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিয়ের কাবিন নিয়ে স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন এক প্রবাসীর পরিবার। প্রথমে বিয়ে পরে মোটা অংকের কাবিন দাবি করা এক নারীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।

ভোক্তভোগীরা জানান, বিয়ের দু’এক মাস না যেতেই কাবিনের টাকা পরিশোধ করতে চাপ প্রয়োগ করে। তার বিয়ের কাবিন পরিশোধ করতে যেয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে আরো ৭/৮টি পরিবার।

সর্বশেষ ওই নারীর বিয়ের কাবিন প্রতারণার শিকার হয়েছেন দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউপির গাজী রওশন আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী গাজী সুজন। প্রতারক ওই নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার চরভবনাথপুর গ্রামের আবুল বাসারের মেয়ে।

ভুক্তভোগী গাজী সুজন জানান, সৌদি আরবে গাজী সুজনের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নারীর। পরে সম্পর্কের জের ধরে এক পর্যায়ে ওই নারী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। গাজী সুজন ওই নারীর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললে তারা লাকির সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে ডির্ভোস হয়েছে বলে জানান। তার সঙ্গে বিয়েতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। পরে গাজী সুজন প্রথমে পাঁচ লাখ টাকার কাবিনে তাকে বিয়ে করেন।

ফ্যাক্স এর মাধ্যমে সৌদি আরবে সুজনের কাছে পাঁচ লাখ টাকার কাবিননামা পাঠায় ওই নারীর বাবা প্রতারক আবুল বাসার। স্বামীর কাছ থেকে কৌশলে কাবিনের পাঁচ লাখ টাকা আদায় করে নেন ওই নারী। এছাড়াও বিভিন্নভাবে আরো ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তার কাছ থেকে।

বিয়ের দেড় বছর না যেতেই কোনো কারণ ছাড়াই সৌদি আরবের বাসা থেকে টাকা- পয়সা স্বর্ণালংকার নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন প্রতারক লাকী আক্তার। পরে স্বামী সুজন এ বিষয়টি তার বাবা মাকে জানায়।

লাকির বাবা বলেন ‘আপনি দেশে আসলে আমার মেয়ে আপনার সংসার করবে তার ভুল হয়ে গেছে। তখন লাকি আক্তারও স্বামী সুজনের কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। এরপর আবার শুরু হয় সম্পর্ক।

ভোক্তভোগী সুজনের পরিবার জানান, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে সুজন দেশে আসে। এসে সরাসরি স্ত্রী লাকি আক্তারের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে যায়। পরে গভীর রাতে সুজনকে একটি রুমে আটকিয়ে পাসপোর্টসহ নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।

জোরপূর্বক ১২ লাখ টাকার কাবিন নামায় স্বাক্ষর নেন লাকী ও তার পরিবারের লোকজন। পরদিন সকালে সুজন চলে আসলে এরপর থেকে কাবিনের ১২ লাখ টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ শুরু করে লাকী ও তার পরিবার। তা না হলে সৌদি আরবে থাকাবস্থায় স্বামীর সঙ্গে তোলা ওই নারীর কিছু অন্তরঙ্গ ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে দিতে থাকে।

সুজন প্রতারণা শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ১২ লাখ টাকা না দেয়ায় সুজনের সঙ্গে তোলা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ‘শুকতারা’ নামে একটি ফেক আইডি দিয়ে পোস্ট করে উলটো তার নামেই সোনারগাঁও থানায় পর্নোগ্রাফি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে লাকি আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন ধরে কথা না বলে পরিচয় গোপন করে লাইন কেটে দেন।

লাকি আক্তারের বাবা আবুল বাসার বলেন, এটা আইনের বিষয়। আইনে যা হয় আমরা তাই মেনে নেব। তাকে জোর করে কাবিন করা হয়নি। আমার মেয়ের একটা বিয়ে হয়েছে। প্রথমে ৫ লাখ পরে ১২ লাখ টাকা কেন কাবিন হলো এ ব্যাপারে তিনি বলেন, তাকে জোর করা হয়নি সে স্বেচ্ছায় ১২ লাখ টাকার কাবিন করেছে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, প্রবাসী সুজন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই মেয়ের কাজই প্রতারণা করা। সুজন ছাড়াও তার আরো ৭/৮ টি বিয়ের খবর পাওয়া গেছে।

সম্পাদনায়: খালেদ সুজন 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status