রক্ত দিয়ে গৃহবধূ লিখে গেলেন জীবনের শেষ প্রতিবাদের দুটি অক্ষর
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 20 November, 2020, 10:37 AM
রক্ত দিয়ে গৃহবধূ লিখে গেলেন জীবনের শেষ প্রতিবাদের দুটি অক্ষর
ঘরের মেঝেতে রক্ত দিয়ে লেখা রয়েছে ‘এ’ যোগ ‘আর’। তার পাশে পড়ে আছে রক্তমাখা একটি ইনজেকশন সিরিঞ্জ। গৃহবধূ কুলসুম আক্তারের মরদেহ ঝুলছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে।
মর্মস্পর্শী এই আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের অভয়নগরে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কুলসুম আক্তারের মরদেহ ও একটি রক্তমাখা ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করেছে। কুলসুম আক্তার ব্যবসায়ী এমতিয়াজ আবাবিল মোহাম্মদ ইয়াসিনের দ্বিতীয় স্ত্রী।
এমতিয়াজ তার প্রথম স্ত্রী রুমার সঙ্গে পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে এমতিয়াজ ও কুলসুমের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এরই জের ধরে নিজের রক্ত দিয়ে এমতিয়াজের ‘এ’ এবং রুমার ‘আর’ লিখে সে আত্মহত্যা করেছে। এমতিয়াজ একজন বহু বিবাহের প্রতারক, আমাদের কুলসুমের মৃত্যুর জন্য সে দায়ী। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃতের একমাত্র কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস মিম জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার সময় মা ঢাকায় অবস্থানরত বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার সময় বাবা আমাকে মোবাইল করে বলেন তোমার মাকে বাঁচাও। এ সময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে দেখি গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মায়ের দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছে।
কুলসুম আক্তারের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কুলসুম আক্তারের সঙ্গে প্রায় ৬ বছর আগে রাজধানী ঢাকার আব্দুল মালেকের ছেলে এমতিয়াজের বিয়ে হয়। তাদের মেয়ে মিমের বয়স এখন ১৮। এমতিয়াজের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রুমার মেয়ে মিম। রুমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এমতিয়াজ অভয়নগরে আসে এবং কুলসুমকে বিয়ে করে। এরপর থেকে কুলসুম ও মিম প্রফেসরপাড়ায় সাবেক শিক্ষক মতিয়ার রহমানের বাড়ি ভাড়া করে বসবাস শুরু করে।
পরবর্তীতে এমতিয়াজ তার প্রথম স্ত্রী রুমার সঙ্গে পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে এমতিয়াজ ও কুলসুমের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এরই জেরে নিজের রক্ত দিয়ে এমতিয়াজের ‘এ’ এবং রুমার ‘আর’ লিখে সে আত্মহত্যা করেছে। এমতিয়াজ একজন বহু বিবাহের প্রতারক, আমাদের কুলসুমের মৃত্যুর জন্য সে দায়ী। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
অভয়নগর থানার এসআই শাহ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে আত্মহত্যার ঘটনা। তদন্ত চলছে। সম্ভবত গৃহবধূ তার বাম হাতে ইনজেকশন সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রক্ত বের করেন এবং ‘এ’ প্লাস ‘আর’ লিখেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।