মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন আসছে জানুয়ারিতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে বেশ কিছু সেনা সরিয়ে নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কর্মকর্তারা এটাও মনে করছেন, দ্রুতই সেনা প্রত্যাহারের আদেশ দেবেন ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় আফগানিস্তান থেকে ৫ হাজার ও ইরাক থেকে ৩ হাজারের মতো সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে। খবর বিবিসির।
এ ব্যাপারে ট্রাম্প বলেছেন, আসছে বড়দিনের উৎসব পালন করতে তিনি ‘সব’ মার্কিন সেনাদের যার যার বাড়িতে চান!
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও মার্কিন নির্বাচনে তার পরাজয় স্বীকার করেননি। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে তিনি অস্বীকার করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, সেনা প্রত্যাহারের সে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিতে যাচ্ছেন, তা অন্তত ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই শেষ করা উচিত।
অবশ্য ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে পারছেন না রিপালিক পার্টির সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল। তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। ম্যাককনেল বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত জঙ্গিরা ভালোবেসে গ্রহণ করবে।
গত সোমবার উচ্চ কক্ষে কেন্টাকি রাজ্যের সিনেটর মিচ ম্যাককনেল বলেন, আমরা অমেরিকার জাতীয় সুরক্ষা ও স্বার্থরক্ষার জন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি। যারা (জঙ্গিগোষ্ঠী) পৃথিবীতে শুধু শক্তিশালী বাহিনী চায়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে অনেক বেশি পছন্দ করবে।
দীর্ঘদিন আগেই অবশ্য সেনা প্রত্যাহার করে তাদের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ ছাড়া অন্য দেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপকে ব্যয়বহুল ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মার্কিন সেনাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, সেনা প্রত্যাহারের এই বিষয়টি সপ্তাহের শেষে তাদের জানানো হবে। এর নির্বাহী আদেশ তৈরি করা হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে পেন্টাগন ঘোষণা করেছিল ইরাক থেকে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি সেনা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। এটা ৫ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজারের মধ্যে হতে পারে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি জানান, যারা থেকে যাবেন, তারা ইরাকে জঙ্গি সংগঠন আইএসকে ‘চূড়ান্তভাবে’ নির্মূল করে দিতে পরামর্শ ও সহায়তা দেবেন।