ষড়ঋতুর দেশ আমাদের। প্রকৃতির নিয়মে পালাবদলে আসে একেক ঋতু। আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির রূপ বদল হয় এসময়। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এতোগুলো ঋতুর বালাই নেই। বেশির ভাগ দেশেই শীত আর গ্রীষ্ম এ দুটি ঋতুই বেশি।
তবে শুধু যে প্রকৃতির বদলি আসে তা কিন্তু নয়, এসময় বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিও শরীরে হানা দিতে পারে। ভোরের কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত দোর গোঁড়ায়। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকার পাশাপাশি খ্যাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। কেননা এসময় সাধারণ ফ্লু, ঠান্ডা, কাশি জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ।
তাই এই সময় সুস্থ থাকতে খাবারের তালিকায় রাখবেন যেসব খাবার-
> বিশেষজ্ঞদের মতে এই সময় খাবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রাখতে হবে তরল খাবার। বিশেষ করে পানি। শীতকালের আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় আমাদের ত্বক ফাটতে থাকে। ফলে হতে পারে নানা রকম চর্মরোগ। তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ভালো থাকবে। এছাড়া পানীয় হিসেবে ভেষজ চা, গ্রিন টি, লেবু চা, আদা চা, পুদিনা পাতার চা খেতে পারেন। এতে করে স্নায়ু শান্ত থাকবে।
> এরপরই রয়েছে সবজি। শীতকালে প্রচুর সবজি পাওয়া যায় বাজারে। অনেকে তো বলেন সারাবছরের সবজির ঘাটতি এই দুই তিন মাসেই মিটিয়ে ফেলা যায়। এর মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, নতুন নতুন শীতকালীন সবজি, মূলা, শিম, পালং শাক, লাল শাক ইত্যাদি। এতে ভিটামিন ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
> এ সময় সুস্থ থাকতে আরও খেতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু, জাম্বুরা, আমড়া, আমলকী, কমলালেবু ইত্যাদি। এগুলো আমাদের ইউমিনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।
> খেতে হবে প্রোটিন ও জিংক জাতীয় খাবার যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
> এছাড়াও তালিকায় রাখুন ফাইবার ও মিনারেল যুক্ত খাবার আপেল, বাদাম, সবজি-ফলমূল। ভিটামিন-ই যেমন ধনেপাতা, পুদিনাপাতা এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। যা নানান ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
> এছাড়াও এই সময়ে নিয়মিত শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি করুন। যা আপনার বিপাক ক্রিয়া ও রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে এবং শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করবে।