প্রায় সমবয়সী পিসি ভাইঝির মধ্যে গত কয়েকবছর ধরেই প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। শেষপর্যন্ত জানুয়ারি মাস মন্দিরে গিয়ে বিয়েও সেরে ফেলেন দুজনে। বাড়িতে থেকে দাম্পত্য জীবন পালন সম্ভব নয়, তাই দুজনে যুক্তি করে বাড়ি ছেড়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ঘটনা।
লখনউয়ের বাসিন্দা পিসির বয়স ১৯ বছর ও ভাইঝির বয়স ১৮ বছর। দুজনেই গত ২ সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর পরিবারের তরফে চাখেরি থানায় পুলিশের দ্বারস্থ হলে তদন্ত শুরু হয়। মোবাইল ট্র্যাকিং করে নাগাল মেলে দুজনের। বৃহস্পতিবার রাতে দুজনের খোঁজে দিল্লির গাজিয়াবাদের কাছে একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানেই পিসি-ভাইঝির হদিশ মেলে। সেখানে আরও একজন যুবতীও ছিলেন। তিনিও লখনউয়ের বাসিন্দা। তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে ১৯ বছরের যুবতীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। দুজনের বিয়ে দিতে তিনিই সাহায্য করেছিলেন। তাই তাঁদের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে সেখানে গাজিয়াবাদে চলে আসেন। তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
জেরার মুখেই প্রকাশ্যে আসে আসল ঘটনা। তাঁরা জানান, পিসি-ভাইঝির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রণয়ের সম্পর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে পরিবারকে লুকিয়ে মন্দিরে গিয়ে সাত পাকের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাঁরা। এরপরই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান তাঁরা। এবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সমলিঙ্গে বিয়ে অপরাধ নয়। তবে কেন্দ্র সরকার সমলিঙ্গে বিয়ের বিরোধিতা করেছে। সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্টেও এ আপত্তির বিষয়টি জানিয়েছে। অবশ্য আদালত যতই রায়দিক, ভারতীয় সমাজে সমলিঙ্গে প্রেম, বিয়ে নিয়ে তীব্র আপত্তি রয়ে গিয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের পিসি-ভাইঝি সেই ভাবনায় কার্যত ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।