ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২০ মে ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
একদিনের কসাই
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 31 July, 2020, 7:57 PM

একদিনের কসাই

একদিনের কসাই

মনির, ছায়েদ, খোকা ও রমজান। কোরবানি ঈদ এলেই ওরা তৎপর হয়ে উঠে। মহল্লার লোকজনের কাছেও ওরা পরিচিত একদিনের কসাই হিসাবে। ঈদের দিন ওরা চারজন ছুরি, দা, চাপাতি নিয়ে চলে যায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া বাড়িতে। অবশ্য ঈদের আগের দুদিনে ওরা নিজেরাই ঘুরে ঘুরে কসাই কাজের চুক্তি নেয়। গরুর চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে কাটা সবই করে তারা। তবে, তারা আসল কসাইয়ের মত কাজ করতে পারেনা। বছরে একদিনের কসাই হিসাবে অন্য সবার মতোই তাদের কাজ।
আসল কসাই গরুর মূল্যের হাজারে ১৩০ থেকে ১০০ টাকা নিলেও ওরা নেয়া কারো কাছ থেকে ৩০০০ টাকা। কারো কাছ থেকে ৪০০০ টাকা। গরু একটু বড় হলে ৫০০০ টাকা দাবি করে। গরু কাটার পর কেউ মাংস দিলে সেটি বাড়তি পাওনা। রায়েরবাগের গ্যাস রোডে দীর্ঘদিন বসবাস করেন আবদুল হাই সিদ্দিকী। তিনি প্রতি বছরই একদিনের কসাই দিয়ে তার গরু কাটান। তিনি বলেন, আমরা দুই তিনজনে মিলে কোরবানি দেই। আসল কসাইয়ের কাছে গেলে টাকা লাগে অনেক বেশি। তাই ওদের দিয়ে এ কাজ করাই। ওদের দিয়ে কাজ করালে সময় লাগে বেশি। নিজেরাও সহযোগিতা করতে হয়। কি করব বলুন? টাকাওতো একটা ফ্যাক্টর। জনতাবাগের তুহিন মিয়া থাকেন দেশের বাইরে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করেন জনতাবাগের নিজ বাড়িতে। তুহিনের স্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রতি বছর আমি বাড়ির দারোয়ানকে দিয়ে লোক ঠিক করি। ওদের ২০০০ টাকা দেই। ওরা গরু কাটা থেকে শুরু করে ভ‚রি পর্যন্ত সাফ করে দিয়ে যায়। ওদের কিছু মাংসও দেই। তিনি বলেন, নিজের লোক নেই বলে এটা তদারকি করা যায়না। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এটা করি। তিনি বলেন, কোরবানির গরু নিজেরা কাটাকাটি করলে এতে আনন্দও থাকে বেশি। একদিনের কসাই মনির পেশায় ভ্যান চালক। তিনি বলেন, সারাদিনে আমরা সর্বোচ্চ দুটি কিংবা তিনটি গরু কাটতে পারি। চারজনে দুই ভাগ হয়ে কাজ করি। প্রথমে একটি গরুর চামড়া ছাড়াতে চারজনে মিলে শুরু করলেও পরে দুই জন অন্য গরুর কাছে চলে যায়। এই ঈদের দিনে জনে তিন থেকে চার হাজার টাকা পাই। সঙ্গে মাংসও পাই। এতেই আমাদের আনন্দ। আরেক কসাই ছায়েদ সবজি বিক্রি করেন ভ্যানে করে। ছায়েদ বলেন, আমরা চারজন এই মহল্লায় ৭/৮ বছর ধরে ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করি। সারা বছর সবজি বেচলেও কোরবানি ঈদের দিনের জন্য অপেক্ষা করি। একদিনে নিজেরা অর্থের অভাবে কোরবানি দিতে পারিনা। যার গরু কেটে দেই তিনি টাকা দেন। সঙ্গে মাংসও দেন। এ মাংস নিয়ে আমরা কোরবানির ঈদে আনন্দ করি। সন্তানদের খাওয়াই। খোকাও ফুটপাতে ব্যবসা করেন। যখন যে ফলের সময় সেই ফল বিক্রি করেন। খোকা বলেন, আমাদের মতো এমন অনেক গ্রæপ আছে এ মহল্লায়। যারা ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করেন। শুধু এখানেই নয়, রাজধানী জুড়েই রয়েছে এমন একদিনের কসাই। যারা ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করে বাড়তি উপার্জন করে। আজ দুপুরে কথা হয় বিকাশ এজেন্ট রনির সঙ্গে। তিনি গত রাতে তিন চার বাজার ঘুরে এক লাখ দশ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, এটা কি হলো বুঝতে পারলামনা। হঠাৎ বৃহস্পতিবার বিকালে বাজার থেকে গরু উধাও। এটা রহস্যজনক। তিনিও একদিনের কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। কসাই তাকে বলেছে গরু কাটতে পারবে তবে বেলা তিনটার পর। তারা আরো দুটি গরুর কাজ শেষ করে আসবে। রনি বলেন, কি করব? আমরা তো গরুর চামড়া ছাড়াতে জানিনা। তাই বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যেতে হচ্ছে। তাদের কথামতো বেলা তিনটায় গরু জবাই দিতে হবে।

সম্পাদনা: এম আলমগীর

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status