ছবি তুলতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচালেন ফটোগ্রাফার
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 15 July, 2020, 6:13 PM
ছবি তুলতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচালেন ফটোগ্রাফার
ছবি তুলতে গিয়ে এক ব্যক্তির প্রাণ বাঁচালেন ভারতের কেরালার এরনাকুলামের বাসিন্দা ফটোগ্রাফার টমি থমাস। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার। তিনি না থাকলে ওই ব্যক্তি সত্যিই প্রাণ হারাতেন বিনা চিকিৎসায়।
দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার এরনাকুলাম জেলার কালামাসারির কাছে একটি বাড়িতে এদাথালা পুলিশ স্টেশন থেকে ফটোগ্রাফার টমিকে ডেকে পাঠানো হয়। ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে ‘মৃত’ ব্যক্তির ছবি তোলার কাজের জন্য তাকে ডাকা হয়। অনুসন্ধানের জন্য ওই মৃতের ছবি তুলতে গিয়েই এক অদ্ভূত ঘটনার সাক্ষী হোন ফটোগ্রাফার টমি থমাস।
ছবি তুলতে গিয়ে মৃদু গলায় মানুষের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন তিনি। ফটো তোলার কাজের মধ্যে বুঝতে পারছিলেন না কোথা থেকে শব্দ ভেসে আসছে। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারেন, 'মৃত' শিবাদাসন অচেতন হয়ে শব্দ করছেন। টনক নড়তেই তিনি উপস্থিত পুলিশ অফিসারকে গিয়ে জানান। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, ওই ব্যক্তির শরীরে তখনো প্রাণ ছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেঁচেও যেতে পারে। এই বিশ্বাসেই ওই মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর সেই ব্যক্তি এখন অনেকটাই সুস্থ। যে মানুষটি নিজেই বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন, তিনি মৃত, সেই মরণাপন্ন ব্যক্তি বর্তমানে ত্রিশূরের জুবিলি মিশন হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কালামাসারির কাছে মালানিমুক্কুতে একটি ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন শিভাদাসন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে এক প্রতিবেশী দেখা করতে এলে তিনি তাকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। করোনা সংক্রমণের ভয়ে তিনি তার কাছে যাননি। উপায় না দেখে তিনি শিবাদাশনকে 'মৃত' বলে মনে করে পুলিশকে খবর দেন।
গত ২৫ বছর ধরে পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন ৪৮ বছর বয়সি ওই ফটোগ্রাফার। রবিবার তিনি না থাকলে ওই ব্যক্তি সত্যিই প্রাণ হারাতেন বিনা চিকিত্সায়। তিনি বলেন, যখন আমি ওই বাড়িতে ঢুকি, তখন ওই ব্যক্তিকে মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। সম্ভবত, ঘরের মধ্যে রাখা খাটের কোণে আঘাত লেগে তার মাথায় চোট লাগে। তা পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। মাথায় চোটের চিহ্ণও ছিল। ঘরের মধ্যে তেমন আলোও ছিল না। দেওয়ালে লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে অল্প ঝুঁকতে হয়। তখনই আমি একটা মৃদু আওয়াজ পাই।
তবে সেই আওয়াজে বিশেষ পাত্তা দেননি। ভেবেছিলেন, ঘরের ভিতরে ও বাইরে মানুষের জটলায় ওই আওয়াজ হয়তো ভুল শুনেছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার যখন আবার সেই একই শব্দ পাই, তখন মেঝেতে শুয়ে থাকা ওই ব্যক্তির একদম কাছে গিয়ে ফের একটা শব্দ পাওয়ার আশায় ঝুঁকে থাকি। মাত্র ২ সেকেন্ড পরই ফের মৃদু গোঙানির আওয়াজ। তবে সেই আওয়াজ অনেকটাই ছিল নাক ডাকার মতো। সূত্র: এই সময়।