ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
জামালপুরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 15 July, 2020, 4:54 PM

জামালপুরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা

জামালপুরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা

পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণে জামালপুরে যমুনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  দ্বিতীয় দফার বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

পানিবন্দী মানুষ পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত গরু-ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। বন্যাকবলিত লোকজনের আশ্রয়ের জন্য খোলা হয়েছে ৫১টি আশ্রয় কেন্দ্র। দুর্গতদের মাঝে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বানভাসীদের পানিবাহিত রোগ দেখা দেওয়ায় ৩৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বন্যা দুর্গত এলাকায়।

ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙেছে। সর্বত্রই এখন পানি। কোথাও শুকনো জায়গা নেই। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটসহ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। ঘরবাড়ি ছেরে মানুষ আশ্রয়ে খুঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় এখন তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।’

বন্যা দুর্গত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে আগে থেকে অনেকে কর্মহীন ছিল। তার সঙ্গে বন্যা যোগ হওয়ায় দুর্গত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে ফের বন্যায় আক্রান্ত হওয়ায় চরমভাবে বিপাকে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। তাদের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। অনেকে খাবার অভাবে চিড়া-মুড়ি খেয়েও থাকছেন। দুর্গত এলাকার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র, সেতু ও উঁচু স্থান যেতে শুরু করেছেন। ঘরবাড়ি বানের পানিতে ভেসে যাওয়া অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। আজ সকালে দেওয়াগঞ্জ পৌর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সড়ক গুলোতে তিন থেকে চার ফুট পানি থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না অধিকাংশ এলাকায়। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলা পরিষদ ও ভূমি অফিসসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তর।

কয়েকজন যানবাহন চালক জানান, হঠ্যাৎ করে বন্যার পানি আসায় রাস্তা ঘাট তলিয়ে গিয়েছে। তাই এখন গাড়ি না চালানোয় তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে চরম দুর্ভোগ পড়তে হবে তাদের। তাই তারা দ্রুত প্রশাসনের কাছে ত্রাণের দাবি জানান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, জেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩১০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং শুকনো খাবার ৪ হাজার প্যাকেট এবং গো-খাদ্য বাবদ দুই লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।

সম্পাদনা: মোঃ রাসেল আহমেদ

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status