সন্তান জন্মের ব্যয়' দিতে না পারায় স্ত্রীকে সন্তানসহ বাড়িছাড়া!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 14 July, 2020, 6:39 PM
সন্তান জন্মের ব্যয়' দিতে না পারায় স্ত্রীকে সন্তানসহ বাড়িছাড়া!
সিলেটের বিশ্বনাথে যৌতুকে দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় সাফিয়া বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূ ৯ দিনের শিশু নিয়ে ঘড়ছাড়া রয়েছেন। তিনি উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বাইশঘর (বর্তমান অবস্থান লামা লহরী) গ্রামের নেফুর আলীর স্ত্রী। গত শনিবার সন্ধ্যায় নবজাতক শিশুকে দেখতে গৃহবধূর ভাই ও মা বাড়িতে গেলে 'সন্তান জন্মের ব্যায়' ৩০ হাজার টাকা দিতে না পারায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গৃহবধূ তাঁর পিতার বাড়িতে নবজাতক শিশু নিয়ে বসবাস করছেন।
সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার বাইশঘর গ্রামের মৃত বুজুর আলী ছেলে নেফুর আলীর সঙ্গে একই উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের মৃত সুনা উল্লাহর মেয়ে সাফিয়া বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের দাবিতে নববধূর ওপর নেমে আসে অমানুসিক নির্যাতন। নববধূ বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে দিলেও আবারো যৌতুকে দাবি করে স্বামী ও তাঁর পরিবার। টাকা দিতে না পারলে চলে নির্যাতন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মুরুব্বিসহ একাধিক বার আপোষ-মীমাংসাও করেন।
গত ৫ জুলাই সাফিয়ার একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেয়। নবজাতক শিশুকে দেখতে গত শনিবার সাফিয়ার বাড়িতে যান তাঁর বড় ভাই গেদু মিয়া ও মা ফাতেমা বেগম। এসময় নেফুর আলী তাদের কাছে সন্তানজন্মকালীন সময়ের ব্যয়ভার হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। ‘টাকার বিষয়ে এখন কিছু বলা যাবে না’ এ কথা বলা মাত্রই তাদের ওপর হামলা চালায় নেফুর আলী, তাঁর ভাই জুনেদ, লুৎফুর ও তাদের ভাগ্নে ফয়ছল। তাদের মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয় যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান সেবুল ও সাফিয়া বেগমের গ্রামের তারেক আহমদ দুলনসহ মুরুব্বিরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
নির্যাতিতা গৃহবধু সাফিয়া বেগম জানান, নির্যাতন সহ্য করে এক বছর পার করেছি স্বামীর সংসারে। ভেবে ছিলাম সন্তানের মুখ দেখে হয়তো পরিবর্তন হবে তাঁর। উল্টো শিশুসন্তান জন্ম নেয়ার পরও আমার পিতার বাড়ির লোকজনের কাছে টাকা দাবী করে। যৌতুকের জন্যই সেদিন মা-ভাইসহ আমাকে মারধর করেছে তাঁরা। গত শনিবার রাতে আমি বাপের বাড়ি চলে এসেছি। বর্তমানে শিশুকে নিয়ে পিতার বাড়িতে অবস্থান করছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাফিয়া বেগমের স্বামী নেফুর আলী কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আমি ব্যস্ত আছি, কথা বলতে পারব না।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা বলেন, এবিষয়ে কোন অভিযোগ এখনই আমরা পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।