১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেলেন আনোয়ার খান হাসপাতালের করোনা রোগী
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 3 June, 2020, 1:57 PM
১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেলেন আনোয়ার খান হাসপাতালের করোনা রোগী
রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নেওয়ার পর বিলের জন্য আটকে রাখা সেই রোগী বিল পরিশোধ করে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ছাড়া পেয়েছেন। বিলের জন্য হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে বলে এদিন রাতে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছিলেন সাইফুর রহমান নামের ওই রোগী।
আজ বুধবার দুপুরে সাইফুর রহমান বলেন, গতকাল রাত ১২টার দিকে আমরা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছি। এরপর মধ্যরাতে বাসায় এসেছি।
তিনি বলেন, বাসায় আসার পরে রাত ২টার দিকে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল থেকে আমাদের ফোন করে আবারও অ্যাডমিনে দেখা করতে বলেছে। আমি এত দিন অসুস্থ ছিলাম তাই বাসাতেই আছি। আমার ছোট ভাই হাসপাতালে গেছে দেখা করতে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে করোনাভাইরাস থেকে থেকে সেরে ওঠার পর চিকিৎসকের ছাড়পত্র মিললেও বিলের জন্য হাসপাতাল তাকে ছাড়ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন সাইফুর রহমান। তিনি জানান, গত ২১ মে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। হৃদস্পন্দন বেশি থাকায় ২৩ মে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
এই রোগী বলেন, কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা ফ্রি করে দিয়েছে সরকার, এটা জেনে এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন অনেক বেশি টাকা দাবি করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভর্তি হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তার রক্তের দুটি পরীক্ষা করেছে, তিনটি এক্স-রে করেছে। আর হাসপাতাল থেকে শুধু নাপা ট্যাবলেট সরবরাহ করেছে যোগ করেন সাইফুর রহমান।
তিনি বলেন, আমার কোনো অক্সিজেনেরও প্রয়োজন হয় নাই। কোনো অপারেশন লাগে নাই। কিন্তু এত টাকা বিল করে দিয়েছে। আমি এত টাকা এখন কোথা থেকে দেব?
বিল থেকে দেখা গেছে, গত ২ জুন পর্যন্ত চিকিৎসকের বিল ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, হাসপাতাল বিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ টাকা, পরীক্ষার বিল ১৯ হাজার ৪৭৫ টাকা, ওষুধের বিল ৫ হাজার টাকা। আর এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ যোগ হয়েছে ১২ হাজার ৯০৩ টাকা।
সাইফুর রহমান আরও বলেন, আমার তিনটার সময় যাওয়ার কথা। এখনও (রাত সাড়ে ১০টা) যেতে পারিনি। ওদের অ্যাডমিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে হাসপাতাল ছাড়তে হলে টাকা দিতে হবে।
এ বিষয়ে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এহতেশামুল হক জানান, মে মাসে সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। তবে ওই রোগীকে ছাড় দেওয়া যায়, ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তিনি।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান বলেন, কোভিড-১৯ নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর বিল সরকার দেবে। এখানে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ১ জুন থেকে তারা বিল নিতে পারবেন।