মাত্র ৫’শ গজ দূরত্বের মধ্যে ১০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তার পাশেই আবার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বগুড়ার শেরপুরে হাসপাতাল সড়কের চিত্র এমনই।
করোতোয়া ল্যাব এন্ড হসপিটাল, ভিশন ল্যাব এন্ড হসপিটাল, মর্ডান ক্লিনিক, শাহীন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইফ লাইন, ভিআইপি জেনারেল হাসপাতাল, সততা হসপিটল এন্ড ডয়াগনস্টিক সেন্টার, শাহ সুলতান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক, শেরপুর মডেল ক্লিনিকসহ আরো কয়েকটি ক্লিনিক এই ৫শ' গজের মধ্যে।
আর এই ক্লিনিকগুলোর ৮০ ভাগ ডাক্তারই শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তারদের রোগী দেখার অভিযোগ পুরোনো। সম্প্রতি শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও মোকছেদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ৬টি ক্লিনিকে রোগী দেখার।
সরজমিনে দেখা গেছে, ৬টি ক্লিনিকে তার নামে রোগী দেখার সাইনবোর্ড।
শেরপুর উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের নাইম আহম্মেদ জানান, গত শনিবার তার মা নূরজাহান বেগমকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান ভিআইপি জেনারেল হাসপাতালে। ডাঃ মোকছেদা বেগমকে দেখানোর জন্য যান তারা। ওই ক্লিনিকে ১২টার দিকে গিয়ে কিছু সময় বসার পর তাকে না পেয়ে যান সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানেও না পেয়ে ২টার দিকে যান ভিশন ল্যাব এন্ড হসপিটালে। সেখানে গিয়ে ডাক্তারকে পান এবং তার মাকে দেখান। রোগী দেখা শেষ না হতেই ডাক পেয়ে যান অন্য ক্লিনিকে। এরপর ফিরে আবার তার মাকে দেখতে এলে নাঈম তার সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এক পর্যায়ে রোগী না দেখেই, প্রেসক্রিপশন না করে তাদের ফিরিয়ে দেন। গতকাল সোমবার ২টায় গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ মোকছেদা বেগমকে না করতোয়া ল্যাব এন্ড হসপিটালে গিয়ে তার দেখা মেলে। সাংবাদিকদের দেখে ওই ক্লিনিক থেকে চলে যান ভিআইপি জেনারেল হাসপাতালে।
সেখানে তার সাথে কথা বলতে চাইলে দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর একজন ডাক্তারকে সাথে নিয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, সাঈনবোর্ড লাগানো থাকলেও সব স্থানে তিনি রোগী দেখেন না। আর রোগীর সাথে সেদিনের এমন আচরণ দুঃখ জনক। অতিরিক্ত চাপ এবং জরুরী রোগী আগে দেখার জন্য এমন হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বাদে ওই রোগীকে আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য পানি খেতে বলে তিনি অন্যত্র গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন ডাঃ মোকছেদা বেগম।