জার্মানিতে হিজবুল্লাহকে নিষিদ্ধের ঘটনায় হামাস ও ইসলামি জিহাদের নিন্দা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 2 May, 2020, 4:27 PM
জার্মানিতে হিজবুল্লাহকে নিষিদ্ধের ঘটনায় হামাস ও ইসলামি জিহাদের নিন্দা
মার্কিন-ইসরাইলি চাপে জার্মানিতে লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব তৎপরতা নিষিদ্ধ এবং তাদের সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) ও ইসলামি জিহাদ।
আল-আরবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক হিজবুল্লাহকে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের দুটি সংগঠন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) এবং ইসলামি জিহাদ।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকেও জার্মানির এই ঘোষণার প্রতিবাদ জানানো হয়।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা বিবেচনা না করে ইউরোপের কিছু দেশ তাদের নীতি প্রণয়ন করছে।
আব্বাস মুসাভি আরও বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্যই জার্মান সরকার হিজবুল্লাহকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জার্মান সরকারের এ সিদ্ধান্তকে চরম অদূরদর্শী বলে সমালোচনা করেন তিনি।
হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেন, জার্মান সরকার সন্ত্রাসবাদের (ইসরাইলের) প্রতি নিজেদের সমর্থনের মুখোশ খুলে ফেলেছে।
জার্মান সরকারের এ বিদ্বেষী পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে শনিবার এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দামের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র বিক্রিকারী দেশগুলো এখন মানবাধিকারের রক্ষক সেজেছে। তারা আসলে তাদের শিশু হত্যাকারী বন্ধুর (ইহুদিবাদী ইসরাইল) ভয়ে হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন-ইসরাইলি চাপে জার্মানিতে লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব তৎপরতা নিষিদ্ধ ও তাদের সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে এমনটিই চেয়ে আসছিল।
এক বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, হিজবুল্লাহর কার্যক্রম ফৌজদারি আইনের লঙ্ঘন করেছে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সমঝোতার বিরোধিতা করে আসছে।
কাজেই জার্মানিতে হিজবুল্লাহর জমায়েত, প্রকাশনা কিংবা মিডিয়া নিষিদ্ধ থাকবে। সংগঠনটির সম্পদও বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ একটি বিদেশি সংগঠন। কাজেই তাদের নিষিদ্ধ ও বিলুপ্তি ঘোষণা অসম্ভব কিছু না।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, হিজবুল্লাহর উগ্র শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক হাজার ৫০ জন জার্মানিতে অবস্থান করছেন।
জার্মানিতে শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। কাজেই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধের এই উদ্যোগ প্রশংসার চোখে দেখছে তারা।