ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরজুড়ে কাজ করার ঘোষণা থাকলেও ভিআইপি এলাকা ছাড়া মার্চ ও এপ্রিল মাসের কার্যক্রম শূণ্যের কোটায়। আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমে এবার ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এরই মধ্যে বৃষ্টির মৌসুম শুরু হয়েছে।
ডেঙ্গু নিধনে কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তিনটি কমিটি থাকার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা থমকে গেছে। কীটনাশকের চাহিদা প্রণয়ন ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা থাকলে বাস্তবে নেই। উত্তরে গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস ও দক্ষিণে মিন্টোরোড, বেইলীরোড, বিচারপতিদের বাড়ির আশপাশেসহ ভিআইপি এলাকায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরেজমিন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এরকম তথ্য জানা গেছে।
বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ. বি. এম. আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গুর নিধনের ব্যাপারে দুই সিটির যে কর্মকান্ড থাকা উচিৎ সেটা কিন্তু নেই। দুই সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের প্রথমও উচিৎ ডেঙ্গু নিধনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
৫] ডিএনসিসির নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর ব্যাপারে ১০মে থেকে আমরা চিরুনি অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছি। সকলের সঙ্গে সমন্বয়ে এই কাজ চলবে। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, পুরনো ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনও এক লাখ ১০ হাজার লিটার সরাসরি ব্যবহার উপযোগী (রেডি ফর ইউজ) নতুন ওষুধ আছে। এই ওষুধ প্রস্তুত করতে যে পরিমাণ কাঁচামাল বা ম্যালাথিউন প্রয়োজন, সেটি চীন থেকে এলসির মাধ্যমে আনা হয়েছে।
[৬] পুরনো যে কোম্পানিকে চার লাখ লিটার ওষুধ দেওয়ার জন্য আগে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেই কার্যাদেশের ওষুধ সরবরাহ এখনও শেষ হয়নি। কার্যাদেশ বাতিলও হয়নি। তারা কয়েক ধাপে আমাদের ওষুধ দিয়েছে। তাই এখনও তাদের সেই ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে।
[৭] দুই সিটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, কিউলেক্স মশা ও ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বিষয়ক পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এই পর্ষদ গঠিত হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মাসেও হবে।