ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৩০ মে ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বই আটকে রেখে ও নম্বর কাটার হুমকি দিয়ে পিকনিকের চাঁদা আদায়
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 5 March, 2020, 7:07 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 5 March, 2020, 7:30 PM

বই আটকে রেখে ও নম্বর কাটার হুমকি দিয়ে পিকনিকের চাঁদা আদায়

বই আটকে রেখে ও নম্বর কাটার হুমকি দিয়ে পিকনিকের চাঁদা আদায়

শিক্ষার্থীদের বই আটকে এবং নম্বর কাটার ভয় দেখিয়ে শ্রেণিশিক্ষাবঞ্চিত করে পিকনিকের চাঁদা আদায় ও আদয়ের চেষ্টা চালিয়েছে যশোরের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ম্যানেজিং কমিটিও এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। অমানবিক ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পলাশী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলের সমাবেশ শেষে পিকনিকের পাঁচ শ টাকা চাঁদা আদায়ের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পিকনিকে যাওয়া 'বাধ্যতামূলক' বলে বই আটকে এবং ৩০ মার্ক কাটার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আনতে ক্লাস চলাকালীন বিভিন্ন ক্লাসের প্রায় এক শ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে বাড়ি পাঠায়। এতে এসব শিক্ষার্থীরা প্রথম পিরিয়ডে ক্লাস বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ অভিযোগ করেছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বই আটকে রাখা ও মার্ক কাটার ভয় দেখানোর কথা অস্বীকার করেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ পিকনিকের চাঁদা আদায়ে শিক্ষার্থীদের বই আটকে রাখার ও নম্বর কাটার ভয় দেখানোর সংবাদ জানার পর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেছে। তখন খোঁজখবর নিয়ে কয়েক শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই স্বল্প আয়ের পরিবারের। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান প্রায় এক শ শিক্ষার্থী এমন অমানবিক ঘটনার শিকার হয়েছেন।

স্কুল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে এড়েন্দা গ্রাম। এই গ্রামে কথা হয় বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিয়া খাতুনের সঙ্গে। পিয়া জানায়, ৮ মার্চ বিদ্যালয়ের পিকনিক হওয়ার কথা। আমি পিকনিকের চাঁদা দিইনি। আমি প্রতিদিনের মতো আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্কুলে যাই। ক্লাসে বই রেখে অ্যাসেম্বলিতে যোগ দেই। অ্যাসেম্বলি শেষে প্রধান শিক্ষক বলেন, যারা যারা পিকনিকের চাঁদা দেওনি তারা বাড়ি থেকে চাঁদা নিয়ে আস। না হলে বই এখানে থাকবে। বই নিয়ে যাওয়া যাবে না। এ কথা শোনার পর আমি কাঁদতে কাঁদতে চাঁদার টাকার জন্য বাড়ি চলে আসি। বাড়ি আসায় প্রথম পিরিয়ডে ইংরেজি ক্লাস করতে পারিনি।

একই গ্রামের ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির আরেক ছাত্রী তানিয়া খাতুন জানায়, অ্যাসেম্বলির পর স্যার বলে, যারা পিকনিকের চাঁদা দিয়েছ তারা ক্লাস কর। আর যারা চাঁদা দেওনি, তারা বাড়ি গিয়ে টাকা  নিয়ে আস, এটা বাধ্যতামূলক। এটা না দিলে আমাদের হাতে ৩০ মার্ক আছে, ফাইনাল পরীক্ষায় হোক আর যে পরীক্ষায় হোক, যত ভালো পার এই ৩০ মার্ক কেটে নেওয়া হবে। এরপর ভয়তে সবাই বলতেছে আচ্ছা যাব। এরপর সবাইরে বাড়ি পাঠায় দেছে। পরে আমার মারে নিয়ে যাই। মা বলার পর বাকি ক্লাস করি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল আলম বলেন, বাধ্যতামূলক বলে বা নম্বর কাটার ভয় দেখিয়ে, বই আটকে রেখে আমি পিকনিকের চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করিনি। শিক্ষার্থীরা পিকনিকে যেতে চেয়েছিল। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ কারণে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে অনেকে চাঁদা দেয়নি। তাই তাদের চাঁদা আনতে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল।
 
শিক্ষাবিদ ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল আলম খান বলেন, এটা আইনের লঙ্ঘন, অবশ্যই মানসিক পীড়ন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা কোনোভাবেই করা যাবে না। আইনে বলা আছে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। এটা অমার্জনীয় অপরাধ।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের বক্তব্য জানতে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একটু খোঁজ নিয়ে তারপর আপনাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানাচ্ছি। এর কিছু সময় পর তিনি নিজেই ফোন করে বলেন, ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের জোর করে বাড়ি পাঠানোর কোনো নিয়ম নেই। ঘটনা জানার পর পিকনিক বন্ধ করতে বলেছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status