যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাস চলে ঋতুরানীর অভিষেক। চারদিক ফুলে ফুলে ভরে উঠতে শুরু করে। সবুজের জোয়ার আসে গাছে গাছে। বাতাসে তখন চলে রোমান্সের গন্ধ। এমন দিনে যদি আপনি ঘুম থেকে জেগে দেখেন আপনার ইট, সিমেন্টের বাড়ি বরফে পরিণত। বের হওয়ার রাস্তা নেই। তাহলে নিশ্চয়ই অবাক হবেন।
তবে অবাক হলেও সম্প্রতি এমনই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল হুভারে। দেশটির অঙ্গরাজ্যটিতে একরাতে সেখানকার ঘর-বাড়ি বরফের প্রাসাদ হয়ে গেছে। ওইসব প্রাসাদেই আটকে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হুভারের হামবুর্গের এরি লেকের কাছে বসবাসকারী এক বাসিন্দা সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন, তার গোটা বাড়িটাই বরফে ঢেকে গেছে। দরজা-জানালা খোলা যাচ্ছে না। অনেকটা সময় ভেতরে আটকে পড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর খুব কষ্টে বাইরে বেরিয়ে দেখেন অদূরের ১৮ ফুট গভীর এরি লেকের নেই কোনো ঢেউ। বরফ জমে শক্ত হয়ে গেছে এর উপরিভাগ। হেঁটেই লেক পার হওয়া যায়।
একই রকম পরিস্থিতির কথা জানিয়ে হুভার সৈকতের এক বাড়ির মালিক এড মিস বলেন, প্রতিবারও এখানে বরফ পড়ে। তবে এবারের মতো পরিস্থিতি কখনো হয়নি। এই প্রথম নিজের বাড়িতেই আটকে পড়লাম। গত কয়েক দিন ধরেই বরফ ভেঙে ঘরে ঢুকতে হয় ও বাইরে বের হতে হয়।
নিউইয়র্কের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, টানা কয়েক দিনের তুষারপাত ও হিমেল হাওয়ার দাপটে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন হুভারবাসী।
এ নিয়ে হুভারের বাসিন্দারা বেশ বিপদে পড়লেও বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছে তাদের বাড়িগুলো।
বরফ ঢাকা ঘরবাড়ির ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই অদ্ভুত বরফ-ঢাকা দৃশ্যাবলির জন্য এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অনেকেই নিজের চোখে তুষারাবৃত বাড়িগুলো দেখতে হুভারে ভিড় জমাচ্ছেন।
যদিও পর্যটকদের নিরাশ করতে সতর্কবার্তা দিয়েছে হামবুর্গ পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা লিখেছেন, এই বরফ যে শুধু অনিরাপদ ও ঠুনকো তাই-ই নয়, এই এলাকার অধিকাংশ বাড়িই ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এটা কোনো পর্যটন স্পট নয়। পর্যটকদের ও বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আমরা বরফ থেকে দূরে থাকতে এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তিতে প্রবেশ না করতে আহ্বান জানাচ্ছি। তবে পুলিশের এমন সতর্কবার্তার তোয়াক্কা না করে বরফ প্রাসাদগুলো দেখতে ভিড় জমছে নিয়মিত।
দেশটির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই অঞ্চলটি ছয়টি ঝড়ের কবলে পড়েছে। তবে এটি দেশটিতে নিয়মিত ঘটে থাকে। তবে সপ্তাহান্তে বরফ গলতে শুরু করলেও, সম্পত্তিগুলোর যে কাঠামোগত ক্ষতি হতে পারে