মুখোশধারীদের হামলায় আহত এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 5 March, 2020, 2:42 PM
মুখোশধারীদের হামলায় আহত এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীর ওপর মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মেয়েটির মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে মারধর এবং জ্যামিতি বক্সের কাঁটা কম্পাস দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে আহত করা হয়েছে। কোনোমতে পালিয়ে বাসায় পৌঁছানোর পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার তাকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে মেয়ের ওপর এই হামলা হলো বলে দাবি করছে তার পরিবার।
আহত জান্নাতুল নওরীন উর্মি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন আহত শিক্ষার্থীর স্বজনরা।
উর্মি জানান, গত ১ মার্চ বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সিঁড়িতে তার ওপর একদল মুখোশধারী হামলা চালায়। তারা মেয়েটির মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। পরে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে জ্যামিতি বক্সের কাঁটা কম্পাস বের করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আহত করে। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
উর্মির বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল মন্নান মৃধা বরিশাল মহানগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি। তার বোন অ্যাডভোকেট ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু উত্তর জেলা মহিলা দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও মহিলা দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক। তার ভাই মেহেদী হাসান সোহেল মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেই উর্মির ওপর এই হামলা হয়েছে।
ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু জানান, ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ উর্মিকে হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করে নগরীর এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তাদের বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল মন্নান মৃধা।
এ বিষয়ে উর্মির বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল মন্নান মৃধা বলেন, ‘আমার মেয়ে হিজাব পরে ক্লাসে যায়। এ কারণে দুই শিক্ষক তার সঙ্গে প্রতিপক্ষের মতো আচরণ করতো। এক শিক্ষক তো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে কীভাবে তুই এখানে পড়াশোনা করিস, তা আমি দেখে নেবো।
এছাড়া কোটা আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয় উর্মি। তা নিয়েও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উর্মির ওপর অনেকে ক্ষিপ্ত হয়। আর এসব কারণে আমার মেয়ে প্রথম বছর ফার্স্ট ক্লাস নম্বর পেলেও দ্বিতীয় বছর সেই নম্বর পায়নি। এবারের এই হামলার সঙ্গে রাজনীতিও জড়িত। যারা আমার মেয়ের ওপর এ হামলা চালিয়েছে, তাদের বিচার দাবি করছি। আর শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিভাবক সুলভ আচরণ কাম্য করি।’
এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, ‘উর্মি খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ছাত্রদলের সঙ্গে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে প্রথম সারিতে থাকতো। তবে তার সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। উর্মির পুরো পরিবার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় এবং সে বিভিন্ন বিক্ষোভ সমাবেশে থাকায় রাজনীতির কারণেই এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি এ হামলায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) জানতে পেরেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আহত শিক্ষার্থীকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে দেখতে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।