ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে ‘মশক নিধন প্রকল্প’
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 5 March, 2020, 11:47 AM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 5 March, 2020, 12:16 PM

মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে ‘মশক নিধন প্রকল্প’

মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে ‘মশক নিধন প্রকল্প’

ঢাকা মহানগরীতে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু,চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি আলাদা বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এজন্য ঢাকা দক্ষিণের পক্ষ থেকে ‘কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট’ ও উত্তর সিটির পক্ষ থেকে ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর (রোগের জীবাণু বহনে সক্ষম বাহক) ম্যানেজমেন্ট’ নামে পৃথক দুটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।  

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আগামী কিছুদিনের মধ্যে নগরীতে মশার ঘনত্ব মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই চলতি বছরেও ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য রোগের প্রকোপ ব্যাপকহারে দেখা দিতে পারে। এবারও গত বছরের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বর্তমান জনবল ও যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব করা যাবে না বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন।

গত বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে নড়েচড়ে বসে সরকার। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তখন সরকার প্রধানের নির্দেশে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনসহ সংশ্লিষ্টরা সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে মশা নির্মূলে স্থায়ীভাবে একটি বিভাগ চালুর ঘোষণা দেন সাঈদ খোকন।

এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি গত বছরের ৭ জুলাই মেয়রের অনুমোদনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ে জমা থাকা ওই প্রকল্পের কোনও গতি হয়নি।

অপরদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামও তার আগের মেয়াদে দেশের বিভিন্ন কীটতত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন।  এই কমিটি ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে।  এরপর ডিএনসিসি প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, দুই সিটির এই প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা শুধু ঢাকা নিয়ে নয়, পুরো দেশ নিয়ে চিন্তা করছে। আর মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন যখন যে চাহিদা জানিয়েছে, সেগুলো পূরণ করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জনবল দেওয়া হয়েছে।  তবে উভয় সিটি করপোরেশনের দাবি, চাহিদার তুলনায় যে জনবল দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

বছরজুড়ে মশক নিধনের বিষয়ে গবেষণা, মশার প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে অবহিত হয়ে সে অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচনসহ নানাবিধ কাজ করার সুবিধার্থে একটি পৃথক বিভাগ খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। সেসময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও তাতে সায় দেন।  এরপর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সাঈদ খোকন সিঙ্গাপুর গিয়ে সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, কর্মপদ্ধতি অবলোকন, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনস্বাস্থ্যগত নানা বিষয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিএসসিসির সঙ্গে সিঙ্গাপুর পার্টনার হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দেয়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘‘আমরা ‘কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট’ নামে যে বিভাগটি চালু করার কথা বলেছি, সেটার বিষয়ে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে এখনও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।  প্রকল্পটি পাস হলে সিঙ্গাপুরের মতো আমরাও ঢাকা নগরীকে সাজাতে পারবো।’’

বিষয়টি সম্পর্কে ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগেরবার দায়িত্বে থাকাকালে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে কোনও উত্তর আসেনি। আমরা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যে প্রস্তাবনাটি দিয়েছি,সেটি বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে আমি মনে করি। তাহলে মশাবাহিত রোগগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুধু সিটি করপোরেশন নয়, সারাদেশের জন্য ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর (রোগের জীবাণু বহনে সক্ষম বাহক) ম্যানেজমেন্ট করার জন্য একটি কাজ করছি। ঢাকা নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমাদের মন্ত্রণালয় এটার জন্য একটা কাঠামো তৈরি করেছে। সেখানে আমি কিছু মন্তব্য দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যে প্রকল্প দিয়েছে সেটা একটি আইনি বিষয়। কারণ, চাইলেই জনবল দিয়ে দেওয়া যাবে না। কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। আর সেখানে কাজ করার জন্য যে জনবল দরকার, সেটা তো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়েরও একটা উইং আছে। তারাও কাজ করছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন প্রকল্পের প্রস্তাবনায় গবেষণার জন্য লোকবল চেয়েছে। এখানে গবেষণার তো কয়েকটা এরিয়া ও ধরন রয়েছে। কীটপতঙ্গের কী ধরনের বায়োলজিক্যাল পরিবর্তন আসছে, তাদের বিস্তার কেমন হবে তা গবেষণার জন্য শুধু নির্ধারিত একটা এরিয়া নয়, পুরো দেশের সব জায়গায় গবেষণা প্রয়োজন।  মশার ওপরে গবেষণা করার জন্য বিস্তর কাজ আছে। পরিবেশগত অনেক বিষয় আছে।  সেগুলো বছর বছর পরিবর্তন হয়। আমরা সেসব বিষয় মাথায় রেখেই কাজ করছি। শুধু নির্ধারিত একটা সংস্থা বা এলাকা নিয়ে সবকিছু করে ফেললে হবে না।’

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘মশার কারণে আজ আমাদের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হলে যে পরিমাণ জনবল দেওয়া দরকার সেটা দিতে হবে। দীর্ঘ গবেষণা করে সিটি করপোরেশন যে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোর এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কোনও দুরদর্শিতা নেই। প্রকল্পে যে টাকা ব্যয় হবে সেটা আমাদের দেশের জন্য কোনও টাকাই না।’ মেট্রোরেলের চেয়েও জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন জরুরি বলেও মনে করেন এই নগর বিশেষজ্ঞ।

এদিকে,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার একদল বিশেষজ্ঞ নিয়ে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় মশার ওপর জরিপ করেছেন। গত সপ্তাহে এই জরিপের তথ্য তিনি প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, মশা নিধনে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঢাকায় মশার ঘনত্ব রেকর্ড ছাড়াবে। মার্চ মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে মশা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার আরও জানান, জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি সপ্তাহে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে তার গবেষক দল মশার লার্ভা সংগ্রহ করেন। দলটি দেখতে পায় ঢাকার বেশিরভাগ কিউলেক্স মশার প্রজননস্থলে ঘনত্ব ২০০ এর ওপরে। এছাড়াও ড্রেন, ডোবা এবং নর্দমাতে প্রচুর ডিম পাড়ছে মশা।

তার জরিপে দেওয়া পরামর্শ, অতি জরুরি ভিত্তিতে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে মশার জন্মানোর স্থানগুলোতে লার্ভিসাইড ছিটানো না হলে মার্চ মাসে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে মশা। এর পাশাপাশি ড্রেন-ডোবা এবং নর্দমার পানি প্রবাহ যাতে বন্ধ বা বদ্ধ হয়ে না পড়ে সেদিকে অতি জরুরি দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status