|
১১ সেকেন্ডে গোল, পোস্টের বাধা, মালদ্বীপের পাল্টা জবাবের পর জিতল বাংলাদেশ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ১১ সেকেন্ডে গোল, পোস্টের বাধা, মালদ্বীপের পাল্টা জবাবের পর জিতল বাংলাদেশ ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এতে নিশ্চিত হয়ে গেছে ঋতুপর্ণা-মারিয়াদের সেমি-ফাইনাল খেলা। তিন দলের ‘বি’ গ্রুপে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ভারতেরও। মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করেছিল তারা। গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে আগামী রোববার মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ ড্র হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ সেরা হবে ভারত। তাই জয়ের কোনো বিকল্প নেই হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গোয়ায় আসা বাংলাদেশের সামনে। স্বপ্ন যাত্রা শুরুর আগেই চোট ছোবল বসিয়েছিল বাংলাদেশ দলে। মালদ্বীপ ম্যাচে খেলতে পারেননি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা; অভিষেক হয়েছে মিডফিল্ডার মোমিতা আক্তার ও ডিফেন্ডার সুরভি আক্তার আরফিনের। শুরুর বাঁশির পর, প্রথম আক্রমণেই গোল পেয়ে যায় বাংলাদেশ। কিক অফের পর ঋতুপর্ণা চাকমার বাম দিক থেকে বাড়ানো নিচু ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন আনিকা। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তোলার পর, চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম গোল পাওয়ার উদযাপন সুইডেন প্রবাসী এই ফরোয়ার্ড সেরে নেন বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে। তৃতীয় মিনিটে ‘অলিম্পিক গোল’ পেতে পারতেন ঋতুপর্ণা, কিন্তু তার বাঁকানো কর্নার ফিরে দূরের পোস্টে লেগে। চাপ ধরে রেখে এরপরও সুযোগ তৈরি করতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বাদশ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিচু ক্রসে গোলমুখে শামসুন্নাহার জুনিয়র ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। বল গোলকিপারের গায়ে লেগে ফের শামসুন্নাহারের গায়ে লেগে যায় বাইরে। ২৮তম মিনিটে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার। ঋতুপর্ণার থ্রু পাস ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান বক্সে। দূরের পোস্টে শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট ক্রসবারের ওপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়। ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রসে জোরাল শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান উমহেলা মারমা। একটু পর ডান দিক থেকে আফঈদা খাতুনের দূরপাল্লার শটে ফিস্ট করে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বের করে দেন মালদ্বীপ গোলকিপার। ৪১তম মিনিটে হঠাৎ করেই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে মারিয়ার শট মালদ্বীপের অধিনায়ক মেশা আব্দুল হান্নানের গায়ে লাগে। এরপর, মেশার পাস ধরে রানিয়া ইব্রাহিম কিছুটা এগিয়ে থ্রু পাস বাড়ান মারিয়াম নুরার উদ্দেশে। সেসময় পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিলি আক্তার। মারিয়ামের শট মিলির ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারের ভেতরের দিকে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে হঠাৎই এলোমেলো হয়ে বাংলাদেশের রক্ষণ। বল নিয়ে মিলিয়ে একা পেয়ে যান মেশা। তবে তার সরাসরি শট পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ গোলকিপারকে। এর পাঁচ মিনিট পর আফঈদার অভাবনীয় ভুলে সমতায় ফিরে মালদ্বীপ। সময় এবং সুযোগ থাকলেও আমিনাথ ফাজলাকে চার্জ করেননি তিনি। বল নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে, ঝাঁপিয়ে পড়া মিলিকে পরাস্ত করেন মালদ্বীপের এই উইঙ্গার। এর পর পরই উমেহলা ও আনিকাকে তুলে শাহেদা আক্তার রিপা ও গত সাফে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা তহুরাকে নামান বাটলার। ৬৪তম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাম দিক থেকে ঋতুপর্ণার ক্রস গোলকিপারের গ্লাভস গলে বেরিয়ে গেলে তার সামনে থাকা প্রীতি নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন। পয়েন্ট হারানোর শঙ্কার মেঘ সরে যেতে থাকে। ৭১তম মিনিটে তহুরার দূরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট ঠেকান গোলকিপার। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ঋতুপর্ণার ফ্রি কিকে হেডে জাল খুঁজে নেন কোহাতি। স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল। তাতে হাসি মুখে মাঠ ছাড়া হয় মারিয়াদের সমর্থনে গ্যালারিতে আসা ছয় রাশিয়ানেরও! একই হোটেলে থাকা এবং একসাথে মাঝেমধ্যে ভলিবল খেলার সুবাদে ঋতুপর্ণা-আনিকাদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে তাদের। বন্ধুদের জন্য গলা ফাটাতে তারা এসেছিলেন গ্যালারিতে। ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’, ‘গো-গো’ শ্লোগানে তারা সারাক্ষণই মাতিয়ে রেখেছিলেন খাঁ-খাঁ গ্যালারি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
