আইএস যোদ্ধাদের শিশুসন্তানদের রাষ্ট্রহীন করবেন না : সেভ দ্য চিল্ড্রেন
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 2 March, 2020, 4:41 PM
আইএস যোদ্ধাদের শিশুসন্তানদের রাষ্ট্রহীন করবেন না : সেভ দ্য চিল্ড্রেন
অস্ট্রেলিয়ার সরকারের উচিত শিশুদের (১৪ বছরের কম বয়সী) রক্ষা করা। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা আইনের 'সিটিজেনশিপ-স্ট্রাইপিং পাওয়ার' অনুচ্ছেদের কারণে তারা রাস্ট্রহীন হয়ে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিল্ড্রেন অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছে এই আহবান জানিয়েছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ারস মন্ত্রী একটি নতুন আইনের প্রস্তাব করেছেন। এই আইনের কারণে দেশটিতে ১৪ বছরের বেশি বয়সী যেকেউ তাদের নাগরিকত্ব হারাতে পারে। আর এই আইনের কোপানলে পড়েছেন সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কয়েকজন মা ও তাদের শিশুরা। এই মায়েরা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক যারা সিরীয় যুদ্ধে আইএস-এর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
সেভ দ্য চিল্ড্রেন-এর ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ ম্যাট টিঙ্কলার এ বিষয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনের কারণে কোনো অভিভাবক বা পিতামাতার নাগরিকত্ব বাতিল হলে তাদের শিশু সন্তানদেরও অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে।
একবছর আগে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের সর্বশেষ ঘাঁটিতে কয়েকজন নারী কুর্দি কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েন। সেই মায়েদের ৪৭ শিশু আল-হাওল শিবিরে বসবাস করছে।
ওই মায়েদের মধ্যে ২০ জন নারী ইতোমধ্যে তাদের অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে যে, ওই নারীরা অন্য দেশের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক অধিদপ্তর বলছে, পিতামাতারা নাগরিকত্ব হারালেও তাদের বাচ্চারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব হারাবে না।
তবে টিঙ্কলার বলেছেন, এই আইনটিতে 'রাষ্ট্রহীনতা রোধে যে পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়ে' তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে এই আইনে অসংগতি রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা ও সুরক্ষা সম্পর্কিত সংসদীয় যৌথ কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন। এই কমিটি দেশটিতে নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন চুড়ান্ত করছে। নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করছে।
এই সংস্থাটি চায় যে, যে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করার পাশাপাশি (১৪ বছরের কম বয়সী) শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিল করার বিষয়টি মানবতার স্বার্থবিরোধী।
সেভ দ্য চিলড্রেনের অভিমত, শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিলের আগে অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে তাদের পরিপক্কতা, জ্ঞানের বিকাশ এবং সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।