ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
রাতের ঢাকা যেন এক নরকগুলজার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 14 February, 2020, 10:11 AM

রাতের ঢাকা যেন এক নরকগুলজার

রাতের ঢাকা যেন এক নরকগুলজার

রাজধানী ঢাকার অনেক রূপ। সায়েদাবাদ অথবা মহাখালীতে চোখে পড়বে দূরপাল্লায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের। গুলিস্তানে হকারের হাঁক-ডাক আর গুলশানে উচ্চবিত্তের বিলাসী জীবন। লালবাগ ও আজিমপুরে শতশত গলির প্রাণচঞ্চল চিত্র। শাহবাগ আড্ডায় মুখর। কর্মব্যস্ত মতিঝিল।

তবে বেশিরভাগ স্থানের দিনের চিরাচরিত রূপটি সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় অন্য রূপে। রাতে লাল-নীলসহ হরেক রঙের বর্ণিল আলোকসজ্জার মোহনীয় দৃশ্য নতুন অবয়বে উপস্থাপন করে রাজধানীকে।

কারওয়ান বাজার, মতিঝিল, গুলশান, বনানী, হাতিরঝিল, তেজগাঁ, ক্যান্টনমেন্ট, বিজয় সরণি, এয়ারপোর্ট মোড়সহ ঢাকার প্রায় সব পথেই রঙিন আলোর ছড়াছড়ি। সাথে শুনশান নীরবতা মুগ্ধ করবে যে কাউকে। কিন্তু রাতের নীরবতায় রাজধানীর সবাই ঘুমায় না। কেউ যখন দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিছানায় গাঁ এলিয়ে দেয় অন্য কেউ তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজের জগতে। এদের কারোটা বৈধ আবার কারোটা অবৈধ।

রাতের ঢাকায় বৈধ কাজ যারা করেন তাদের বেশিরভাগই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শ্রমিক বা মজুর। কেউ আবার জীবিকার দায়ে বের হন রিকশা-সিএনজি বা অন্য কোনো বাহনকে সম্বল করে।

রাতে অবৈধ কাজেরই দৌরাত্ম্য বেশি। সন্ধ্যার পর থেকেই চলে এ দলের প্রস্তুতি। সংখ্যায় কম হলেও অন্ধকার বাড়ার সাথে সাথে এদের তৎপরতা বাড়ে। এ দলে রয়েছে পতিতা, ছিনতাইকারী ও মাদকারবারীরা।

স্থান ও সময় ভেদে এদের রূপ পরিবর্তন হয়। বদলে যায় অপরাধের ধরন ও কৌশল। রাজধানীতে কয়েক ধরনের পতিতা রয়েছে। এদের মধ্যে জায়গা ও স্থান ভেদে রয়েছে পরিবর্তন। ছিনতাইকারীদের হিসাবও অনেকটা একই রকম।

সমাজে অবস্থানগত দিক থেকে রাজধানীতে দুই ধরনের পতিতা রয়েছে। একদল অবস্থান নেয় বিভিন্ন বাসা-বাড়ি বা আবাসিক হোটেলে। আরেক দল ভ্রাম্যমাণ।

যারা ভ্রাম্যমাণ তাদের মধ্যে আছে আবার তিনটি গ্রুপ। একটি গ্রুপ শুধুমাত্র পতিতাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। সমাজের ভেতরে এদের তেমন আনাগোনা নেই। এরা থাকে রাস্তার পাশে বা কোনো নিন্মমানের জায়গায়। সাধারণত বড় বড় শহরের বিভিন্ন রাস্তা, অলিগলি, নানা ধরনের উদ্যান, লেকের ধার, নানা ধরনের জঙ্গলাকীর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে খদ্দের সংগ্রহ করে এরা। যৌনকর্মীদের মধ্যে এ শ্রেণি সবচেয়ে নিম্নমানের।

ভ্রাম্যমাণ পতিতারা সাথে সবসময় পেতে দেয়ার মত কিছু বহন করে। খদ্দের সংগ্রহ করার পর একটু অন্ধকারে গিয়ে অনেকটা জনসম্মুখেই বা অন্যান্য খদ্দেরদের সামনেই তারা খদ্দেরের মনোরঞ্জন করে। এদের অনেকেরই আগমন বিভিন্ন পতিতালয় থেকে। সরকার যখন পতিতাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই বিভিন্ন পতিতালয় ভেঙে দেয়ায় ভাসমান হয়ে এরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবার আসে শহরের বিভিন্ন বস্তি থেকে। বস্তির মেয়েরা-যাদের চেহারা বা শরীর স্বাস্থ্য পুরোপুরি বা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে অন্য কোনো কাজ করতে সক্ষম নয় তারা এসে ভিড় জমায় শহরের বিভিন্ন জনাকীর্ণ জায়গায়।

এ ধরনের পতিতার বেশি আনাগোনা লক্ষ্য করা যায় বিজয় সরণি এলাকায়। রাত ৯টা বাজতেই ওরা দখলে নেয় বিজয় সরণির সামনের রাস্তা। সন্ধ্যা নামার পরই সব গোছগাছ করে রাখে এখানকার পতিতারা। খদ্দেরের মনোরঞ্জনের অস্থায়ী এক ধরনের ঘরও করে এখানকার পতিতারা। এ রঙ্গকুঞ্জ এক ফালি কাপড় বা পলিথিন দিয়ে সাজানো হয়। কেউ কেউ আবার গায়ের ওড়না দিয়েই বেড়া বানিয়ে লোকচক্ষু থেকে নিজের আদিম পেশাটি আড়ালের চেষ্টা করে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status