পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি কোনভাবেই কমছে না। বাজারে এখনো পেঁয়াজের দামের ঝাঁজে ক্রেতারা দিশেহারা। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এখনো বাজারে পেঁয়াজের দাম উর্দ্ধমুখী। সাধারণ ক্রেতারা বাজারে গিয়ে পেঁয়াজ কিনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
সরকারের নানামুখী প্রচারনার পরও এখনো পাইকারী বাজারে দেশী পেঁয়াজের দাম দুইশ টাকা কেজি। আমদানীকৃত বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দরে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে সরকার পেঁয়াজ আমদানী করে বাজার নিয়ন্ত্রণে যে চেষ্টা করছে সেটা নসাৎ করতে কোন সিন্ডিকেট কারসাজি করছে?
বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত। সরকারীভাবে টিসিবি প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ১৪০ টাকা। আর সেখানে পাইকারী ও খুচরা বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২শ টাকা কেজি দরে।
এদিকে, জরুরীভিত্তিতে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানী করলেও তাতে খুব বেশি সফলতা আসেনি। চীন-মিশর ও তুরস্ক এবং পাকিস্তানের পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে তা কিনতে সাধারণ ক্রেতারাও খুব বেশি আগ্রহী নয়। ব্যবসায়ীরা জানান, দেখতে অনেক বড় সাইজের এ পেঁয়াজগুলো খেতেও সুস্বাদু নয়।
সরকারী বিপণন সংস্থা টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে দেশী নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। সে হিসেবে এখন পেঁয়াজের বাজার নিম্নগতি হবার কথা। গত বছরে এই সময়ে পেঁয়াজের কেজি ছিলো ২০ থেকে ২৫ টাকা। যা বর্তমানে ছয়গুণেরও বেশি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। চীনা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকা, মিশর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। তবে এক্ষেত্রে পাকিস্তানের পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। ১৫০ ও ১৬০ টাকা দরে পাকিস্তানী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তথাকথিত সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজ আমদানী করা সত্ত্বেও দামে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বিশেষ করে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থাও নাজুক। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এ ব্যাপারে শুধুমাত্র মিডিয়াতে প্রচার-প্রোপাগান্ডা করে চুপ।
এদিকে, পেঁয়াজ ইস্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে। এ নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা আছে বলে মনে করছে না ভুক্তভোগীরা। ক্যাবের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে নামকাওয়াস্তে। এ ব্যাপারে সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এর দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল এবং সরকারের মনিটরিং না থাকায় এখনো পেঁয়াজ বাজার উর্দ্ধমুখী। তার মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং হলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমতো। বাংলা ইনসাইডার