ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
দেড় বছরে ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ বেড়েছে সরকারের
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 5 May, 2026, 12:14 PM

দেড় বছরে ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ বেড়েছে সরকারের

দেড় বছরে ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ বেড়েছে সরকারের

২০২৪ সালের জুন থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় বছরে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ের প্রায় পুরোটা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। এ সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কম অর্থ ব্যয় করা হলেও ঋণের লাগাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। 

গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় হালনাগাদ ঋণ বুলেটিন প্রকাশ করেছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে যা ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার মেগা প্রকল্প থেকে সরে আসার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন ব্যয় ব্যাপকভাবে কমালেও ঋণনির্ভরতা কমাতে পারেনি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করতে না পারা এবং আগের ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি-পরিচালন ব্যয়ে লাগাম টানতে না পারায় ঋণ বাড়াতে হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আগের সরকারের পতনের আগে ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ঋণ বুলেটিনে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা উল্লেখ ছিল। পরে বৈদেশিক ঋণকে নতুন বিনিময় হারে রূপান্তর করার কারণে এর পরিমাণ ৫৬ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বেড়েছে।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরে সরকার ৩৪৪ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা নিয়েছে, আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ডলার। দেড় বছরে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের পরিমাণ আট লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আগের সরকারের পতনের এক মাস আগে যেখানে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ১০ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা, তা গত ডিসেম্বর শেষে বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা— যা সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সে তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপি ব্যয় ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা এবং আগের সরকারের শেষ অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ দশমিক পাঁচ লাখ কোটি টাকায়। উন্নয়ন ব্যয় কমলেও ঋণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। 
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত ঋণ নিয়েছে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে এবং ঋণ পরিশোধ-সংক্রান্ত চাপ সামাল দিতে। তিনি আরও বলেন, সাধারণত রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটানো হয় এবং সেখান থেকে কিছু অর্থ উন্নয়ন ব্যয়েও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই ঠিকমতো মেটানো যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। নব্বইয়ের দশকের পর এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। 

সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েই চলেছে
কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে, উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের কিছু অংশও ঋণ করে মেটাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয় নির্বাহে অধিক হারে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে করে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। বিশেষত ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের একক বড় খাত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
  
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদে ৫৬ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে ৯ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৬৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। আগে অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয় এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status