ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৬ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
চালের দাম কেন বেড়েছে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 18 November, 2019, 8:43 PM

চালের দাম কেন বেড়েছে?

চালের দাম কেন বেড়েছে?

পেঁয়াজের দাম নিয়ে এখনও নৈরাজ্য থামেনি। এর মধ্যেই সব ধরণের চালের দাম কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে গেছে।

আড়তদার, মিল মালিক কিংবা খুচরো বিক্রেতা- সবাই একবাক্যে বলছেন এই সময়ে এভাবে চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
টিসিবির হিসেবে চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত আর নাজির/মিনিকেট সাধারণ মান ৪৮থেকে ৫৩ টাকা; আর উত্তম মানের চাল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। আর মোটা চাল অর্থাৎ স্বর্ণা/চায়না/ইরি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরেও চালের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তুমুল শোরগোল শুরু হলে তখনকার বাণিজ্যমন্ত্রী দুজন চালকল নেতার বিরুদ্ধে মজুতদারির অভিযোগ এনে তাদের গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। দাম বাড়ছে কেন? পেঁয়াজ নিয়ে যখন তুমুল আলোচনার ঝড় চলছে, তার মধ্যে চালের দাম বাড়ছে কেনো - তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এমন প্রশ্নের জবাবে রাজধানীর বাবুবাজারের শিল্পী রাইস এজেন্সির মালিক কাওসার হোসেন বলছেন, যে দামে এখন চাল বিক্রি হচ্ছে সেটি বছরের এ সময়ে সাধারণত যে দামে চাল বিক্রি হয় তার চেয়ে কেজি প্রতি গড়ে ৪/৫ টাকা করে বেশি।

"দাম এখন একটু বাড়তির দিকে। এক সপ্তাহ আগেও যে দামে চাল বিক্রি করেছি, এখন তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ মিল থেকে আমাদের কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে"।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মোটা চালের দাম ২/১ টাকা বাড়লেও নাজিরশাইল চাল খুব একটা বাড়েনি। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তরা যে চাল বেশি কেনেন সেই মিনিকেট চাল।
মহিউদ্দিন রাজা বলছেন, আগামী বৈশাখ মাসের আগে চালের দাম কমে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে তার কাছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রাজা বলছেন যে, মিল মালিকরা দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে বেশি দামে ধান কেনার কথা বলছেন।

"বাজার এখন চড়া। সাধারণত চিকন চাল ও মিনিকেটের দাম এসময় কম থাকে। কিন্তু এখন বাজারে সেটি দেখা যাচ্ছে না। মিলাররা বলছেন তাদের বেশি দাম দিয়ে নতুন ধান কিনতে হচ্ছে"।

মিল মালিকরা বলছেন- দাম বাড়ানো হয়নি
পাইকারি পর্যায়ে বিক্রেতারা মিল মালিকদের দায়ী করলেও বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কেএম লায়েক আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ধানের দাম একটু বেড়েছে বলে মিনিকেট চালের দাম সামান্য বেড়েছে।

‘যে ধানটা আমরা ২০ থেকে ২২ দিন আগেও ৮৫০ টাকায় কিনেছি সেই ধানই এখন ১০২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে সামান্য বেড়েছে যা খুব একটা প্রভাব পড়ার কথা নয়’।

তিনি বলেন, চিকন (মিনিকেট) চালটা আগে অল্প লোক কিনতো কিন্তু দাম কম থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই খাওয়া শুরু করেছে। যদিও যে ধান থেকে চালটা হয় সেটি বছরে মাত্র একবার উৎপাদন হয়।

"অন্যদিকে পরিবহন সেক্টরেও কিছুটা অস্থিরতা আছে। ট্রাক নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছে না। কিন্তু মিনিকেটে ২/১ টাকার ব্যবধান ছাড়া খুচরা পর্যায়ে অন্য কোনো চালের দাম বাড়ার সুযোগই নেই। যারা বাড়াচ্ছেন দায়টা তাদের"।

ঢাকায় ভোক্তা পর্যায়ে 'কোনো অদৃশ্য শক্তি' দাম বাড়ায় সেটি তাদের জানা নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেড় মাস আগেও চালের খুব একটা বেচাকেনা ছিলো না কিন্তু এখন হঠাৎ করেই বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই

এদিকে চালের দাম নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মোছাম্মৎ নাজমানার খানম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "আমরা মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। নিশ্চিত করে বলতে চাই যে এক টাকাও দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই"।

তিনি বলেন, মিল মালিকরা বলছেন তারা দাম বাড়াননি এখন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কিছু করলে তার জন্য আইন আছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেটা দেখবে।
"আমাদের উৎপাদন সর্বোচ্চ। মজুতও যথেষ্ট। যদিও মিল মালিকরা বলছেন সড়ক আইনের কারণে পরিবহন নিয়ে একটু সংকট চলছে কিন্তু তাতেও খুব একটা হেরফের হওয়ার কথা নয়"।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status