বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম তরিকুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, তিনি (তরিকুল) আন্দোলন করতে করতেই মারা গেছেন। এখন আমরা যারা আন্দোলন করছি তার শূন্যতা অনুভব করছি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের আয়োজিত ‘তরিকুল ইসলাম : জীবন ও সংগ্রাম‘ শীর্ষক স্মরণসভায় তিনি একথা বলেন।
তরিকুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুদু বলেন, তরিকুল ইসলাম যেদিন থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন সেদিন থেকে এদেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র এবং কৃষক শ্রমিকের পক্ষে কাজ করে গেছেন। তারপরও তার জীবন যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখব তিনি অর্থের প্রতি লোভ ছিলেন না। বিলাসিতার প্রতি আকৃষ্ট হতেন না।
সাবেক ছাত্রদলের এ সভাপতি বলেন, তরিকুল ইসলাম সারা জীবন কষ্ট করেছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন। তার মত করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশা, কথা বলা অনেকেরই সে ক্ষমতা ছিল না। তিনি যদি কখনও কারও সাথে একটু রাগ করতেন পরবর্তীতে তিনি তাকে কাছে ডেকে নিয়ে ভালোবাসতেন এবং বলতেন তোর সাথে একটু রাগ করেছি তখন মাথা গরম ছিল মনে কিছু করিস না।
তিনি বলেন, বর্তমান দেশের যে অবস্থা এই অবস্থায় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যারা আন্দোলন করছি। আমরা তরিকুল ইসলামের শূন্যতা অনুভব করছি। এই সময় তার খুব দরকার ছিল।
দুদু বলেন, আমরা তখনই তরিকুল ইসলামের প্রতি সম্মান জানাতে পারব যখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব। সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা চালু করতে পারব। কারণ, তিনি দেশে গণতন্ত্র, ভোটার অধিকার,সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করে গেছেন এবং আন্দোলন করতে করতেই মরে গেছেন।
তিনি বলেন, তরিকুল ইসলামের কাছ থেকে আমরা যা পেয়েছি যে আদর্শ পেয়েছি। সেটি অমূল্য সম্পদ। এ সময় তিনি সাদেক হোসেন খোকার কথা উল্লেখ করে বলেন সাদেক হোসেন খোকা ও তরিকুল ইসলাম একই লাইনের মানুষ। তারা দুজনেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। খোকাকে আমরা পাব আর একটা দিন পরে। তবে জীবিত না মৃত। তার মাগফেরাত কামনা করি এবং এ দুজনের আদর্শকে আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করি।
বিএনপি নেতা শামীমুর রহমান শামীম ও মীর রবিউল ইসলাম লাভলুর সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, তরিকুল ইসলামের স্ত্রী যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম প্রমুখ।