বাগমারার তাহেরপুরে স্কুল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর রিভার ভিউ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্প্রসারন ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক ভবনের উত্তর পাশে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ঊর্ধমূখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে দোতলা ভবনের নির্মান কাজ চলছে।
কাজটি পেয়েছেন, পুঠিয়া উপজেলার পচামাড়িয়া গ্রামের এমডি মিলন ফার্ম। ঠিকাদার ভবন নির্মাণের আগে কোনো সিটিজেন চার্ট টাঙাননি। তাদের কাছে নির্মান কাজের নকশা দেখতে চাইলে তারা না দেখিয়ে নানা রকম গড়িমশি করেন। ভবনটি নির্মানে ভিত্তি (বেজ),স্তম্ভ (কলাম) ও ছাদ ঢালাইয়ের পুরুত্ব, রড, সিমেন্ট, ইট, খোয়া বালু ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম করা হচেছ। এসব অনিয়ম দেখে এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসির অভিযোগ, ঠিকাদার অতি গোপনে ভবনের নির্মান কাজ করছেন। পরিত্যক্ত ভবনের পুরাতন ইট এবং খোয়া স্কুলের পুরাতন ভবনের ছাদে নিয়ে পরিষ্কার ও ভাঙ্গার কাজ করা হচ্ছে। দোতলা ভবন নির্মানে কোন প্রকার পাইলিং করা হয়নি। রডের পুরুত্ব কম দেওয়া হয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে পরিমানের চেয়ে কম রড ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনের প্রতিটি পিলারে ১৪ থেকে ১৬ টি রড ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সেখানে কোনটিতে ৬টি এবং কোনটিতে ৮টি রড ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি পিলার এবং বেজ ঢালাইয়ে যে পরিমান সিমেন্ট ব্যবহার করার কথা তার অর্ধেকও ব্যবহার করা হয়নি।
বাগমারার তাহেরপুরে স্কুল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিকাদার দ্রæত নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্যে রাজমিস্ত্রি ও লেবারদের কাজের সময় শেষ হওয়ার পরও বাড়তি মুজুরী দিয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করাচ্ছেন। ভবনটি নির্মানে নকশার কোন নিয়মই মানা হয়নি।
ইাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন বলছেন,নতুন ভবন নির্মাণে এতসব অনিয়ম দেখেও কেন স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষক এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করছেন না? তাঁদের নীরব ভুমিকায় এলাকার সচেতন মহল সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তাদের ধারনা, সংশ্লিষ্টরা মোটা অংকের ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে ভবনটির নির্মাণ কাজ হ-য-ব-র-ল করে দ্রুত শেষ করতে চাইছেন। ভবনটি নির্মাণে এসব অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঠিকাদারের লোকজনের কাছে কাজের নকশা চেয়ে না পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান মীরের কাছে নকশা দেখতে চান। তিনি কয়েকদিন ঘোরানোর পরও নকশা দেখাননি।
উপরন্ত তিনি মন্তব্য করেন যে, এসব ভবন নির্মাণ কাজ শতভাগ নিয়ম মেনে হয়না,তবু আমি কাজটি ভালোমত করে নেওয়ার চেষ্টা করবো।
এসময় প্রধান শিক্ষক স্থানীয় সাংবাদিককে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্কুলের ভবন নির্মান বিষয়ে এত খোঁজ খবর না নিয়ে হরিতলা মোড়ে রাস্তার দুই পাশে মানুষের ওঠা নামার সিঁড়ি দখল করে পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মার্কেট ঘর নির্মাণ করছেন, সেটা নিয়ে নিউজ করছো না কেন?
ঐ স্কুলের একজন ছাত্রীর অভিভাবক জানান, ঐতিহ্যবাহী তাহেরপুর রিভার ভিউ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন দুই কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন নির্মান যে আয়তন ও নকশায় করা হচ্ছে তাতে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। তবে কেন এমন বিল্ডিং নির্মাণে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। অনেকে মনে করছেন, লুটপাট করার জন্যেই তদবীরের মাধ্যমে এই বরাদ্দ পেয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে স্কুল এলাকার একজন বিশিষ্ট নাগরিক তাহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারি অধ্যাপক শ্রী সত্যজিত রায় তোতা বলেন, রিভার ভিউ বালিকা বিদ্যালয়ে যে ভবন নির্মাণ হচ্ছে তার নির্মান ব্যয় কোনভাবেই ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা হতে পারেনা।
এত টাকার কাজ জেনে এলাকার মানুষ খুশিই হয়েছিল যে, বড় একটি ভবন নির্মাণ হবে কিন্তু প্রত্যক্ষ করে দেখা গেল ছোট একটি একটি দুই রুম বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন নির্মান করা হচ্ছে যাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, পুরাতন ভবনের ইট, খোয়া, নিম্ন মানের রড, বালি। ফলে যে কোন সময় ছাদ ধ্বসে পড়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রীরা মারাত্বক দূর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই তিনি বড় ধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে ঊর্ধ্বতন মহলকে কাজটি পরিদর্শনের আহবান জানান’।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো. হেলাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নকশার কপি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিল্ডিয়ের দায়িত্বে থাকা বাগমারা উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন মৃধা বলেন, নতুন ভবন নির্মানে অনিয়মের কথা লোকমুখে শুনেছি। আমি নিজে ভবনটির কাজ দেখেছি তাতে অনিয়ম হচ্ছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ভবন নির্মাণে বরাদ্দের টাকা নিয়ে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে তার দায় স্কুল কমিটির সভাপতি তাপস কুমার দাস পিন্টুর এবং দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীর। বিষয়টি নিয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি তাপস কুমার দাস পিন্টু দেশের বাহিরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মুঠোফোনে উপ-সহকারি প্রকৌশলী আমির আলী দেওয়ান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ভবনটি নির্মাণে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি। যদি কেউ অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারে তাহলে রেক্টিফাই করার সুযোগ থাকলে তা করা হবে।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, তাহেরপুরে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে ভবনটির নির্মাণ কাজ দেখতে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।