ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন
ভারতের এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে পাগলা ঘোড়া
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 1 October, 2019, 1:48 PM

ভারতের এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে পাগলা ঘোড়া

ভারতের এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে পাগলা ঘোড়া

ভারত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে৷ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে খোলা বাজারে ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷

বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আছে৷ মোট চাহিদার দুই তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় স্থানীয়ভাবে৷ বাকিটা আমদানি করতে হয়৷ প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ দিয়েই ওই ঘাটতি মেটানো হয়৷ তাই ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়লে বাংলাদেশেও বাড়ে৷ ভারত পেঁয়াজের দাম প্রতি টন ৩৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করায় গত দু'মাস ধরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলছিল৷ এবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধন্ত নিয়েছে ভারত সরকার৷ ফলে এক রাতেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা হয়েছে৷ দু'মাস আগে স্বাভাবিক সময়ে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ টাকা৷ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি যা তাতে পেঁয়াজের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় বলা মুশকিল৷

কলাবাগানের খুচরা বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এই খবরের পর রবিবার রাত থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে৷ কয়েক ঘণ্টায় দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা থেকে কেজি ১২০টাকা হয় আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা থেকে হয়ে যায় ১১০টাকা৷ তবে আগস্ট মাসে দেশি পেঁয়াজ ছিল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ছিল ৩৫ টাকা কেজি৷''

হিলির ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ যত পেঁয়াজ আমাদনি করে তার ৭০ ভাগই আসে ভারত থেকে৷ আমরা অতি মাত্রায় ভারতনির্ভর৷ তাই ভারতে পেঁয়াজের সংকট হলে আমাদের এখানেও সংকট হয়৷ এই বছর তারা পেঁয়াজের দাম দুই দফা বাড়িয়েছে৷ আর শেষ পর্যন্ত রপ্তানিই বন্ধ করে দিলো৷ আবার কবে রপ্তানি শুরু করবে তার ঠিক নেই, কারণ, ভারতেই এখন পেঁয়াজের সংকট৷ তাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে৷ ভারতে যে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫টাকা, তা হয়ে গেছে ৩৫ টাকা৷''

পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়৷ ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে টিসিবি'র মাধ্যমে ঢাকায় ৩৫টি স্থানে, চট্টগ্রামে ১০টি স্থানে আর বাকি ছয়টি বিভাগীয় শহরের পাঁচটি করে স্থানে বিক্রি হবে মঙ্গলবার থেকে৷

আর পেঁয়াজ যাতে ব্যবসায়ীরা মজুদ করতে না পারে সেজন্য ১০টি টিম গঠন করে দেশের ১০টি এলাকায় পাঠানো হয়েছে৷ মিশর, তুরস্ক এবং মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমাদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ মিশর থেকে দুটি পেঁয়াজবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে৷

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আগামী দেড় মাসের মধ্যে বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ উঠবে৷ আমদানির পাইপ লাইনে যা আছে তা মিলিয়ে আমাদের দুই মাসের পেঁয়াজ মজুদ আছে৷ তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই৷ যাতে কেউ মজুদ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা৷ এজন্য ১০টি টিম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কাজ শুরু করেছে৷ পেঁয়াজ পচনশীল ভোগ্যপণ্য, এটা যারা মজুদ করবেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন৷''

তিনি জানান, ‘‘খোলাবাজারে আগেও পেঁয়াজ বিক্রি হতো৷ এখন আমরা দ্বিগুণ করে দিয়েছি৷ ঢাকার বাইরে প্রয়োজন হলে আরো বাড়াবো৷ তাছাড়া তুরস্ক, মিশর ও মিয়ানমার থেকে আমরা পেঁয়াজ আনছি৷ মজুদ ঠেকানোর ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি৷ এটা ঠেকাতে পারলেই কোনো সংকট হবে না৷''

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের শেষ দিকেও বাংলাদেশে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছিল৷ ভারত তখন পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করে৷ তার প্রভাবে বাংলাদেশে ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ৭৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা হয়েছিল৷ এবার সংকট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে৷ 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status