|
পাকিস্তানের ভিত নাড়িয়েও হারল আফগানিস্তান
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
|
পাকিস্তানের ভিত নাড়িয়েও হারল আফগানিস্তান এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে চলে গেল পাকিস্তান। আর পাঁচে নেমে গেল ইংল্যান্ড। এক ধাপ নিচে নেমে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ষষ্ঠ স্থানে। হারলে টুর্নামেন্টে থেকে প্রায় ছিটকে পড়বে- এমন শঙ্কা নিয়েই শনিবার (২৯ জুন) হেডিংলিতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শাহিন আফ্রিদি, ইমাদ ওয়াসিম ও ওয়াহাব রিয়াজের আগুন ঝড়া বোলিংয়ের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি গুলবদিন নাইব বাহিনী। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৭ রানে থামে আফগানদের ইনিংস। ২২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ফাখর জামানকে (০) হারায় পাকিস্তান। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটিতে সে ধাক্কা সামলে নেন ইমাম উল হক আর বাবর আজম। ১৬তম ওভারের শেষ বলে ৩৬ রান করা ইমামকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ নবী। নিজের পরের ওভারে এসে বাবরকেও (৪৫) বোল্ড করেন আফগান এই অফস্পিনার। তারপরও একটা সময় ৩ উইকেটেই ১২১ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে ৩৫ রানের ভেতর আরও ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদ ডেকে আনে সরফরাজের দল। সপ্তম উইকেটে শাদাব খান আর ইমাদ ওয়াসিম ৫০ রানের জুটিতে আবারও দলকে লড়াইয়ে ফেরান। এই জুটিটা ভাঙে শাদাবের (১১) দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে। তবে ইমাদ ওয়াসিম একটা প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন। শেষ ১২ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৬ রান। তখনও ম্যাচটা ফিফটি-ফিফটি অবস্থায়। কিন্তু ফাস্ট বোলার ওয়াহাব রিয়াজ আফগান স্পিনার রশিদ খানের শেষ ওভারে ১ ছক্কা মেরে রানের চাপ কমিয়ে দিলেন। ওই ওভারে এলো ১০ রান। শেষ ওভারে ৬ রানে ৬ রানের মতো সহজ লক্ষ্য পাড়ি দিতে মোটেই কষ্ট হলো না ইমাদ ওয়াসিমের। গুলবাদিন নাঈবের করা ওই ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যান। আফগানিস্তানের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মুজিব উর রহমান আর মোহাম্মদ নবী। এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানদের। দলীয় ২৭ রানে আফগান শিবিরে জোড়া আঘাত হানলেন পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। খেলার ৫ম ওভারের ৪র্থ বলে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন গুলবদিন নাইব (১৫ রান)। এর পরের বলেই ইমাদ ওয়াসিমের হাতে শূন্য রানে ধরা পড়েন হাশমতউল্লাহ শহিদি। এরপর দেখে শুনেই খেলছিলেন ওপেনার রহমত শাহ ও ইকরাম আলি খিল। কিন্তু দলীয় ৫৭ রানে ইমাদ ওয়াসিমের বলে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন রহমত শাহ। তিনি করেন ৪৩ বলে ৩৫ রান। ৫৭ রানে ৩ উইকেট হারালে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ইকরাম আলি খিল ও আসগর আফগান। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল আফগানদের ইনিংস। দু’জন মিলে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। তাদের এ জুটিতে ভাঙন ধরান শাদাব খান। দলীয় ১২১ রানে তার বলে বোল্ড আউট হন আসগর আফগান। আউট হবার আগে তিনি করেন ৪৩ রান। এরপর আসগর আফগানের পথেই হাটেন ইকরাম আলি খিল। তিনি ব্যক্তিগত ২৪ রানে ইমাদ ওয়াসিমের বলে মোহাম্মদ হাফিজের হাতে ধরা পড়েন। আফ্রিদি-রিয়াজ-ইমাদ ওয়াসিমদের বোলিংয়ে তখন ২০০ রানই আফগানদের জন্য অনেক বড় সংগ্রহ বলে হচ্ছিল। তবে আসগরের পর আফগানদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে যান নাজিবুল্লাহ জাদরান। বাকিরা একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও, তিনি খেলেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস। আসগরের মতো তিনিও ফিফটি না করার আক্ষেপ নিয়ে আউট হন। ফেরেন সমান ৪২ রান করে। তবে এই ইনিংসেই ২০০ পার করার মতো শক্তি পেয়ে যায় আফগানিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২২৭ রান তোলে দলটি। পাকিস্তানের হয়ে সেরা বোলিং পেসার শাহিন আফ্রিদি ৪৭ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। এ ছাড়াও ইমাদ ওয়াসিম ও ওয়াহাব রিয়াজ নেন ২টি করে উইকেট। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
