|
পরকীয়ায় বাধা, সন্তানকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে নিরুত্তাপ মা
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
পরকীয়ায় বাধা, সন্তানকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে নিরুত্তাপ মা শুক্রবার ভোরে কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় শুভম রায়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। পুলিশের দাবি, হত্যার অভিযোগ স্বীকার করে নিহতের মা কাকলি রায় ও তার বন্ধু প্রেমিক রঞ্জিত ভড়। এই ঘটনায় হাওড়ার চ্যাটার্জীহাট থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মা ও তার প্রেমিক দুজনকেই শুক্রবার গ্রেফতার করে। শনিবার তাদের দুজনকে হাওড়া আদালত তোলা হয়। জানা যায়, প্রেমে বাধা ছেলে শুভমকে সরাতেই প্রেমিককে দিয়ে পরিকল্পনা করে হত্যা করে মা কাকলি। এমনকি পরিকল্পনা করে ছেলেকে হত্যা করার পরেও নিরুত্তাপ ছিল সে। হত্যার পরেও কিছু না জানার অভিনয় করে সে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পরিকল্পনায় কাজ হয়েছে কিনা তা জানতে শুক্রবার রাতে প্রেমিক রঞ্জিত ভড়ের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে কাকলি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সামনে ছেলে হারিয়ে যাওয়ার ও অপহরণ করার অভিনয় করে। তাৎপর্য পূর্ণভাবে চ্যাটার্জীহাট থানায় গিয়ে প্রেমিকের নামে ছেলেকে অপহরণ করার অভিযোগও দায়ের করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সামনে এই বিষয়গুলি সামনে আসায় রীতিমতো হতবাক হয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। কি করে নিজের সন্তানকে এইভাবে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে নিরুত্তাপ রইলেন মা কাকলি তা ভেবেই শিউরে উঠছেন গোয়েন্দারা। শনিবার কাকলি ও রঞ্জিতকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে মা কাকলি রায়ের প্রেমিক রঞ্জিত ভড়ের হাতে নিহত হয় হাওড়ার স্কুল ছাত্র শুভম। শুক্রবার ভোরে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মা ও তার প্রেমিকের ফাঁসির দাবিতে সরব হয় এলাকাবাসী। শনিবারও এলাকায় যেতেই সেই দাবিতেই অনড় থেকে তাদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। কলকাতার হাসপাতাল থেকে শুভমের মরদেহ এসে পৌঁছায় হাওড়ায় তাদের কলাবাগানের বাড়িতে। এরপরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। শুভমের ফুফু নিরূপা দাস বলেন, এমন পৈশাচিক কাজের একমাত্র শাস্তি ফাঁসি। এদেরকে সেই শাস্তি দিলে তবেই আমাদের শুভমের আত্মার শান্তি হবে। হাওড়ার কেদারনাথ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, তার স্কুলের ছাত্র শুভম রায়ের পাশবিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন একটি শোক প্রস্তাব নিয়ে স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
