ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১ কার্তিক ১৪৩৩
ফুটবলে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, এসে গেল ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 17 October, 2026, 2:49 PM

ফুটবলে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, এসে গেল ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’

ফুটবলে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, এসে গেল ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’

মাঠে কোনো ফুটবলারকে সতর্ক করতে বা শাস্তি দিতে পকেট থেকে কার্ড বের করেন রেফারিরা। তবে এবার উরুগুয়ে কাপের একটি ম্যাচে ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেল। একজন ফুটবলারকে সতর্ক করার জন্য ফোনের আকারের একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস তুলে ধরেন রেফারি!

ফুটবলে কার্ড দেখানোর প্রাচীন প্রথার আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ সেটি। পরিচিত হলুদ কার্ডের ঝলকানির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজিটাল স্ক্রিন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কোপা উরুগুয়েতে রেন্তিস্তাসের বিপক্ষে নাসিওনালের ম্যাচে ডিভাইসটি ব্যবহার করেন রেফঅরি এদুয়ার্দো ভারেইয়া। তিনি এমন একটি পদ্ধতি পরীক্ষা করছিলেন, যা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো ডিজিটালভাবে রেকর্ড করার মাধ্যমে রেফারিদের প্রশাসনিক কাজকে সহজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এটাই কি ফুটবলের ভবিষ্যৎ?


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে কেউ কেউ এ প্রশ্ন তুলছেন। মাঠে এক খেলোয়াড়কে সতর্ক করতে মুঠোফোন আকৃতির একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র উঁচিয়ে ধরেন রেফারি। সেটা আসলে ফুটবলে কার্ড দেখানোর প্রচলিত যে প্রথা, সেটাই আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক এক উদ্যোগ। পরিচিত হলুদ কার্ডের পরিবর্তে ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার করেন ম্যাচের রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো রেকর্ড করে রেফারির প্রশাসনিক কাজকে সহজ করার উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির নেপথ্যে থাকা 

শুক্রবার প্রতিষ্ঠান ‘রেফে’র পরিচালক মাউরো সাকো উরুগুয়ের রেডিও ‘এল এস্পেকতাদোর দেপোর্তেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ফুটবলে একমাত্র যে বিষয়টি এখনো অ্যানালগ রয়েছে, আমরা সেখানে প্রযুক্তি নিয়ে আসতে কাজ করছি।’

কার্ড দেখানোর পর সাধারণত তা কলম দিয়ে লিখে রাখেন রেফারিরা। মূলত এটাকে আধুনিক করার ভাবনা থেকেই এই ডিজিটাল কার্ডের ব্যাপারটি এসেছে। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে এই ধারণাটির উদ্ভব হয়, যখন সাকো এবং তার সহ-পরিচালক দিয়েগো দে লা পেনা বৃষ্টির মধ্যে একটি ম্যাচ দেখছিলেন এবং ভাবছিলেন কীভাবে রেফারিরা পরে ডিজিটাল সিস্টেমে তথ্য স্থানান্তর করার আগে হাতে লিখে সতর্কবার্তা রেকর্ড করেন।

নতুন ডিভাইসটি টাইমস্ট্যাম্পসহ ম্যাচের ঘটনাগুলো রেকর্ড করে এবং এর ডেভেলপারদের লক্ষ্য হলো, উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ‘কমেট’ প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিক রেকর্ড জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা।

দৃশ্যমানতার চ্যালেঞ্জ

ভারেইয়ার মতে, নতুন এই যন্ত্রটি ব্যবহারে আরামদায়ক ছিল এবং এর সফটওয়্যার দ্রুত সাড়া দিত, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে এতে প্রচলিত অঙ্গভঙ্গির নাটকীয়তার অভাব ছিল।

“যদিও এখানে দ্রুত কার্ড দেখানোর সেই জাদুকরি ব্যাপারটি কিছুটা হারিয়ে যায়, কিন্তু আমি মনে করি এটি আমাদের অনেক সাহায্য করবে, বিশেষ করে প্রশাসনিক দিক থেকে।”

প্রথম বাস্তব-পরীক্ষায় একটি সমস্যাও সামনে এসেছে- ‘দৃশ্যমানতা।’ আগের একটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল, যেটির মূল কারণ ছিল, সূর্যের আলোর কারণে স্ক্রিনটি দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। এবার এই ম্যাচেও গ্যালারির দর্শক এবং টেলিভিশন দর্শকরা কিছু সিদ্ধান্ত আলাদা করে বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

দে লা পেনা অবশ্য বললেন, সময়ের সঙ্গে এটিও আরও উন্নত করে তোলা হবে। এটি এমন একটি প্রকল্প, যেখানে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। টিভিতে দেখার চেয়ে সরাসরি মাঠে এটি অনেক ভালো লাগছিল। এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো পুরো দর্শকের জন্য এটিকে আরও উন্নত করা। হলুদ কার্ডকে হলুদ হতে হবে, লাল কার্ডকে লাল হতে হবে এবং তা মাঠে উপস্থিত দর্শক ও টেলিভিশনে দৃশ্যমান হতে হবে।

দর্শকের কাছে রংগুলো আরও স্পষ্ট করতে ডেভেলপাররা ডিভাইসটির চারপাশে এলইডি লাইটিংসহ বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। সাকো জানান, ব্র্যান্ডটি নিবন্ধিত হয়েছে এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের পেটেন্ট নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের ডেভেলপারদের ভিত্তি চীনে।

এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগটি অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সেটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন সাকো।

“আমরা ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব ধরনের মন্তব্য দেখেছি। এমনকি আমরা মিমগুলো দেখে হেসেছি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লোকে এটি নিয়ে কথা বলছে। যেকোনো উদ্ভাবনে কিছুটা সময় লাগে।”

এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করার পর অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ও বিশ্ব ফুটবলের সংস্থা ফিফা এটিকে স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে বলে আশা করছে ‘রেফে’।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status