ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ ট্রাম্পের, হতে পারে এ মাসেই
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 8 October, 2026, 10:12 AM

ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ ট্রাম্পের, হতে পারে এ মাসেই

ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ ট্রাম্পের, হতে পারে এ মাসেই

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি শেষ করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) কয়েক দিন আগে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। তবে হামলা শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্দেশনায় দেওয়া হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এবং সম্ভবত তার এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলি নির্বাচনের আগেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরানের জ্বালানি খাত, অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হামলার পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করাই প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প যেকোনো সময় সব ধরনের বিকল্প হাতে রেখেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন খুব শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরানকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি দুটি পথের একটিতে যাবে—সহজ পথে অথবা কঠিন পথে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব তাস রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা সবচেয়ে ভালো হবে, তিনি সেটিই করবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টি ট্রাম্প বিবেচনা করছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল ক্যাম্প ডেভিডে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করে। যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বৈঠকে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এখনো ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন ছাড় দেওয়ার দাবি রয়েছে।

দ্বিতীয় এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে, এমন আলোচনা এখন অনেক বেড়েছে। নির্বাচনের আগে এটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়, তবে আমরা সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এটি হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।’

এদিকে গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় ফোনালাপ। এর আগে বেশ কয়েক সপ্তাহ তারা প্রায় কোনো কথাই বলেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের নিহতদের স্মরণ ও তাদের প্রতি সম্মান’ নিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, এই ফোনালাপের আগে নেতানিয়াহু ইরান নিয়ে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সোমবার তিনি মার্কো রুবিওর সঙ্গেও কথা বলেন।

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হলে সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিতভাবে অভিযান চালাবে এবং এতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও অংশ নেবে। দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সরকার এখন মরিয়া ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে তারা নিজেরাই আগে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের ভাষ্য, ইরান ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে এবং তারা তৃতীয়বার এমন হামলার মুখে পড়তে চায় না।

ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাবের আশঙ্কা
যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলের নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের দিকে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে, এমনকি উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি শুধু বেড়ে গেলেও, তা রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এতে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে তাঁর বিরোধীদের পক্ষে তাকে আক্রমণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status