|
ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক থেকে নতুন করে ফেরা, ১৬৫ কোটি টাকার মালিক এই অভিনেত্রী
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক থেকে নতুন করে ফেরা, ১৬৫ কোটি টাকার মালিক এই অভিনেত্রী আজ ৪ অক্টোবর ৩৭ বছরে পা দিলেন ডাকোটা জনসন। গত এক দশকের বেশি সময়ে তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নন, প্রযোজক হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে স্বাধীন ধারার ছবি—দুই ধরনের কাজেই তাঁকে দেখা গেছে। আর ‘ফিফটি শেডস’–এর পর নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে নিজের হাতে নিয়েছেন তিনি। জন্মই যেন ছিল সিনেমার দুনিয়ায় ডাকোটা মাইয়া জনসনের জন্ম ১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবর, টেক্সাসের অস্টিনে। বাবা অভিনেতা ডন জনসন, মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তাঁর নানি ছিলেন ‘দ্য বার্ডস’ ও ‘মার্নি’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া টিপ্পি হেড্রেন। অর্থাৎ অভিনয় তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যও। শৈশব কেটেছে হলিউডের পরিচিত পরিবেশে। মাত্র ৯ বছর বয়সে মায়ের অভিনীত এবং তৎকালীন সৎবাবা অ্যান্টোনিও বান্দেরাস পরিচালিত ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ ছবিতে অভিনয় করেন। পরে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ২০১০ সালে ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘বেস্ট্রান্ড’, ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য ফাইভ-ইয়ার এনগেজমেন্ট’, ‘বেন অ্যান্ড কেট’সহ বেশ কিছু কাজ করেন। তবে এগুলো তাঁকে বড় তারকা বানাতে পারেনি। সে কাজ করে দেয় একটি বইয়ের চলচ্চিত্রায়ণ। ‘ফিফটি শেডস’ বদলে দিল সবকিছু ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’। ই এল জেমসের বহুল আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে ছবিতে ডাকোটা অভিনয় করেন আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে, তাঁর বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান। ছবিটি মুক্তির আগেই ছিল তুমুল আলোচনায়; কারণ, গল্পে ছিল যৌন সম্পর্ক, আধিপত্য, নগ্নতা ও প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের নানা জটিলতা। ডাকোটার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—এ ধরনের দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে নিজেকে কতটা উন্মুক্ত করবেন এবং চরিত্রটিকে কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবেন। শেষ পর্যন্ত ডাকোটা পিছিয়ে যাননি। পরিচালক স্যাম টেলর-জনসনও তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছিলেন। ডাকোটা নিজেও জানিয়েছিলেন, অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোয় তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন। এসব দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সেট ছিল সীমিত মানুষ নিয়ে, যাতে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পরিসর বজায় থাকে। শুধু অভিনয় নয়, চরিত্রটির জন্য শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হয়েছিল ডাকোটাকে। ২০১৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ছবিতে নগ্ন হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই শরীরকে প্রস্তুত করেছিলেন। ‘নগ্ন দৃশ্য’ নিয়ে ডাকোটার বক্তব্য ডাকোটার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি এই নগ্ন দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বিষয়টিকে শুধুই বিতর্ক হিসেবে দেখেননি। ২০২২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাকোটা বলেন, তিনি যৌনতা সম্পর্কে কৌতূহলী এবং সে কারণেই এমন ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। একই সঙ্গে জানান, ‘ফিফটি শেডস’ করার সময় তিনি যে ধরনের সিনেমা কল্পনা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ছবিটি তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়েছিল। ডাকোটার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের শরীর ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। ‘ফিফটি শেডস’–এর অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে যত আলোচনা হয়েছে, ডাকোটা ততই স্পষ্ট করেছেন—এগুলো তাঁর অভিনয়জীবনের একটি অংশ, পুরো পরিচয় নয়। তিন ছবিতে আনাস্তাসিয়া ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটের ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এরপর আসে ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ ও ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’। দ্বিতীয় ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয়টি প্রায় ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে। অর্থাৎ তিন ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজি ডাকোটাকে শুধু তারকা বানায়নি, তাঁকে হলিউডের বড় বাণিজ্যিক ছবির অভিনেত্রীদের সারিতেও নিয়ে আসে। প্রথম ছবির জন্য ডাকোটার পারিশ্রমিক ছিল তুলনামূলকভাবে কম—প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু প্রথম ছবির বিপুল সাফল্যের পর পরবর্তী দুটি ছবির জন্য তাঁর পারিশ্রমিক সাত অঙ্কে পৌঁছে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ‘ফিফটি শেডস’ নিয়েই সব সময় খুশি ছিলেন না সাফল্য যত বড়, অভিজ্ঞতাও ততটা সহজ ছিল না। পরে ডাকোটা জানান, ফিফটি শেডস’ বানানোর সময় সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যে ধরনের সিনেমায় সই করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেটি অন্য রকম হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের সাক্ষাৎকারে ছবিটির নির্মাণপ্রক্রিয়াকে ডাকোটা অত্যন্ত অগোছালো ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।তবু এই ফ্র্যাঞ্চাইজিই ডাকোটাকে এমন পরিচিতি দেয়, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরে নিজের পছন্দের সিনেমা করার সুযোগ পান। ‘সেক্স সিম্বল’ পরিচয়ের বাইরে যেতে চেয়েছেন ‘ফিফটি শেডস’–এর পর ডাকোটা যেন ইচ্ছা করেই ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করেন। অভিনয় করেন ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্ল্যাক মাস’, ‘হাউ টু বি সিঙ্গেল’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’, ‘সাসপিরিয়া’ ও ‘দ্য পিনাট বাটার ফ্যালকন’-এ। বিশেষ করে লুকা গুয়াদানিনোর ‘সাসপিরিয়া’ ছিল ডাকোটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখানে তিনি ‘ফিফটি শেডস’–এর পরিচিত রোমান্টিক তারকা নন; বরং জটিল ও অন্ধকার চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘দ্য লস্ট ডটার’, ‘পারসুয়েশন’ ও ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে প্রমাণ করেন, বাণিজ্যিক খ্যাতির বাইরে অভিনয়ের অন্য জায়গাতেও তাঁর আগ্রহ আছে। অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক ডাকোটার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি টাইম পিকচার্স। সাবেক নেটফ্লিক্স নির্বাহী রো ডনেলির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বোট রকারের সঙ্গে ফার্স্ট লুক চুক্তি করে। প্রযোজক হিসেবে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’, ‘ড্যাডিও’সহ বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন। ‘ড্যাডিও’-তে শন পেনের বিপরীতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও ছিল তাঁর। ২০২৪ সালে ফোর্বসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টি টাইম পিকচার্সের সঙ্গে কাজ নিয়ে ডাকোটা ও ডনেলি বলেছিলেন, শুরুতে তাঁদের নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। পরে একের পর এক প্রকল্পের মাধ্যমে সেই ধারণা বদলেছে। অর্থাৎ ডাকোটা এখন শুধু অন্যের লেখা চরিত্রে অভিনয় করেন না; কোন গল্প পর্দায় আসবে, সেটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছেন। ‘ম্যাডাম ওয়েব’–এর ধাক্কা তবে ক্যারিয়ারে সব সিদ্ধান্ত সাফল্য এনে দেয়নি। ২০২৪ সালের সুপারহিরো ছবি ‘ম্যাডাম ওয়েব’ ছিল ডাকোটার জন্য বড় ধাক্কা। সনি পিকচার্সের ছবিতে ক্যাসান্দ্রা ওয়েব চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। কিন্তু ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ডলার। পরে ‘ম্যাটেরিয়ালিস্টস’ নিয়ে আলোচনার সময় ডাকোটা সরাসরি ‘ম্যাডাম ওয়েব’ প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বড় বাজেটের সিনেমায় অনেক সময় সৃজনশীল সিদ্ধান্ত কমিটির হাতে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত যে ছবি তৈরি হয়, সেটি শুরুর ধারণা থেকে অনেকটাই বদলে যেতে পারে। তিনি বলেন, ছবিটির ব্যর্থতার দায় তাঁর একার নয়। এ মন্তব্যও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। তবে এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—বড় স্টুডিও ছবির চেয়ে নিজের পছন্দের গল্প ও নির্মাণপ্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিজীবন নিয়েও কম আলোচনা হয়নি ডাকোটা বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে চেয়েছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল কোল্ডপ্লে তারকা ক্রিস মার্টিনের সঙ্গে। সম্পর্কটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হলেও দুজনই ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে খুব কম এনেছেন। ২০২৬ সালে ডাকোটা নিজের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বলেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মানুষ যেন তাঁর অবস্থান বা ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি বিষয় না জানে—এটি তিনি খুব সচেতনভাবেই চান। অভিনেত্রী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও ব্যক্তিজীবনে যতটা সম্ভব নিজের মতো থাকার চেষ্টা ডাকোটার ক্যারিয়ারের একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য।ডাকোটা আবার বড় আলোচনায় এসেছেন ‘ভেরিটি’ সিনেমা নিয়ে। কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে ছবিতে তাঁর সঙ্গে আছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট। কত সম্পদের মালিক ডাকোটা সেলিব্রেটি নেট ওয়েথের হিসাবে ডাকোটার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। ডাকোটার আয়ের প্রধান উৎস অভিনয় হলেও ‘ফিফটি শেডস’–এর পারিশ্রমিক, পরবর্তী সিনেমাগুলোর আয়, প্রযোজনা এবং ব্র্যান্ড-সম্পৃক্ততা তাঁর সম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
