|
পুলিশের সঙ্গে চোটপাট করা কে এই লেডি বাইকার?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() পুলিশের সঙ্গে চোটপাট করা কে এই লেডি বাইকার? অনলাইনে ‘লেডি বাইকার’ নামে পরিচিত হলেও নিজেকে শুধু একজন ‘বাইকার’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সুমাইয়া সুমু। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং বাইক চালানোর বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও নিয়মিতই অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন সুমাইয়া। ঢাকার রাজপথে মুখে মাস্ক কিংবা মাথায় হেলমেট পরে বিভিন্ন ধরনের মোটরসাইকেল চালানোর ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। কখনো শহরের ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ভ্রমণের মুহূর্ত তুলে ধরেন তিনি। এসব ভিডিওতে মোটরসাইকেলের প্রতি তার আগ্রহ ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। আবার কখনো মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুই হাত ছেড়ে দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলও দেখিয়েছেন তিনি। মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি অভিনয় ও মডেলিংয়েও কাজ করেছেন সুমাইয়া। ২০২১ সালে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু করে কয়েকটি নাটক ও মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন তিনি। তবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে অভিনয় থেকে সরে আসেন। লেডি বাইকার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় তার আলাদা পরিচিতি। মোটরসাইকেল নিয়ে ভ্রমণ, বিভিন্ন মডেলের বাইক চালানো এবং অ্যাডভেঞ্চারধর্মী নানা ভিডিওর কারণে অনুসারীদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন সুমাইয়া সুমু। যদিও তার কিছু ভিডিওর ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। গতকাল রাজধানীর ৩০০ ফিট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানো এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে এই নারী বাইকার ও তার স্বামীকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বাড্ডা জোন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ৪টার দিকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের একটি পয়েন্ট দিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন ওই দুই আরোহী। এ সময় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেন। মোটরসাইকেলটি থামানোর পর সার্জেন্ট উল্টো পথে চলাচলের কারণ জানতে চান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন। এ সময় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী কর্তব্যরত সার্জেন্টের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাদের সার্জেন্টের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের নারী আরোহী সার্জেন্টের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ করেন। এতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্য সড়কে অসদাচরণ ও তাকে হেনস্তা করার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে ওই দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক বিবৃতিতে বলেছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে শালীন আচরণ নিশ্চিত করতে ডিএমপি নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান কিংবা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অসদাচরণের মতো ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
