ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বিএসইসি কর্মকর্তা আনোয়ারুলকে ঘিরে অভিযোগ, পুঁজিবাজারে উদ্বেগ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 22 September, 2026, 3:51 PM

বিএসইসি কর্মকর্তা আনোয়ারুলকে ঘিরে অভিযোগ, পুঁজিবাজারে উদ্বেগ

বিএসইসি কর্মকর্তা আনোয়ারুলকে ঘিরে অভিযোগ, পুঁজিবাজারে উদ্বেগ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে পুঁজিবাজারে নানা অভিযোগ উঠেছে। ব্রোকার হাউস হয়রানি, নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার অপব্যবহার, তদন্তের নামে চাপ সৃষ্টি এবং অনৈতিকভাবে অর্থ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন বাজারসংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিএসইসির বর্তমান ওয়েবসাইটে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলামকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে বর্তমানে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি ব্রোকার হাউসের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন, হিসাব ও কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাজারে সূচকের স্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলে নির্দিষ্ট কিছু ব্রোকার হাউসের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কেন কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেশি শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার হাউসের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ উপদেষ্টা, অর্থমন্ত্রী, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

বাজারসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিনিয়োগ ও ঋণ হিসাব নিয়ে অতীতে কয়েকটি ব্রোকার হাউসের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত ও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ভুক্তভোগীদের আরেকটি অভিযোগ, কয়েকটি ব্রোকার হাউস নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করলেও তাদের আবেদন আটকে রাখা হয়েছে।

এমনকি যেসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক হিসাবের উদ্বৃত্ত অর্থ এবং শেয়ার সমন্বয়ের হিসাব ঠিক রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনও স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী লেনদেনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার যেকোনো সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর। ফলে কোনো ব্রোকার হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত, লিখিত কারণ দর্শানো এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। এতে বিএসইসির প্রতি বাজারসংশ্লিষ্টদের আস্থা বজায় থাকবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কমবে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটের মধ্যে একজন নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status