ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যার ৬ বছর: বিচারের আশায় পরিবার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 20 September, 2026, 12:21 PM

সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যার ৬ বছর: বিচারের আশায় পরিবার

সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যার ৬ বছর: বিচারের আশায় পরিবার

সাভারের দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলা রায়কে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার ছয় বছর হলেও বিচার শেষ হয়নি।

ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজওয়ানুজ্জামানের আদালতে মামলাটি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। ১৮ সাক্ষীর মধ্যে নয়জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

সবশেষ গত ২৪ মে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে ওইদিন কোনো সাক্ষী আদালতে আসেননি। এজন্য আগামী ২৫ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী শাখাওয়াত হোসেন সানী।

বিচার নিয়ে আক্ষেপ করে নীলার বাবা নারায়ণ রায় বলেন, প্রায় প্রতি তারিখে আদালতে যাই। লম্বা-লম্বা তারিখ পড়ছে।

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা নারায়ণ রায়। হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ছয় বছর হয়ে গেল। এখনো বিচার পাইনি। মেয়েকে ছাড়া একটুও ভালো নেই।”

তিনি বলেন, যতটা পারি তাকে ভুলে থাকতে চাই। কিন্তু বক্তব্য নিতে আপনারা আমাকে ফোন করে যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিলেন। আমি শতভাগ নিশ্চিত এই আসামিদের কিছুই হবে না।”

২০২০ সালে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নীলা রায় ও তার ভাই অলক রায়ের পথরোধ করে মিজানুর রহমান নামে একজন। নীলাকে উঠিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব দিলে প্রত্যাখ্যান করায় নীলাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগপত্রে মিজানুর রহমান ছাড়াও তার সহযোগী সেলিম পাহলান ও সাকিব হোসেনকে আসামি করেছে পুলিশ।

স্কুলছাত্রী নীলা নৃত্য করতেন। এলাকার অনেকেই তাকে চিনত বলে বাবা নারায়ণ রায় বলছেন।

তার কথায়, তাকে অনেক ভালোবাসত। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব না। মেয়েকে খুন করে আসামিরা এখন জামিনে প্রকাশ্য ঘুরছে। অথচ বিচার পেলাম না।

তবে আমি চাই সুষ্ঠু বিচার হোক। বিচার বিচারের আশায় আছি। আশা করছি, বিচারটা দ্রুত শেষ হবে।

হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা নারায়ণ রায় সাভার ছেড়ে পরিবার নিয়ে থাকছেন উত্তরায়।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ওই এলাকা ছেড়ে দিয়েছি। আগে ছাড়লে আরও ভালো হত। মেয়েটাকে হারাতে হত না।

নীলাকে হত্যার পর দিনই সাভার মডেল থানায় মামলা করেছিলেন তার বাবা। সাভার মডেল থানার ইন্সপেক্টর নির্মল কুমার দাস মামলা তদন্ত করে ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল মিজানুর, সাকিব ও সেলিমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০২২ সালের ৩ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয় আদালত।

ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজওয়ানুজ্জামানের আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর পুলিশ একটি সংকটময় অবস্থা ছিল। অনেকে পলাতক হয়েছেন, আবার অনেককে বদলি করা হয়েছে। কে কোন থানায় আছে জানা যাচ্ছে না।

আমরা চেষ্টা করছি সাক্ষীদের আদালতে হাজিরের। বিচারটা যেন দ্রুত শেষ হয়, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সেই চেষ্টায় আছি। ভুক্তভোগী পরিবারটা যেন ন্যায়বিচার পায়।

মামলার তিন আসামি জামিনে ছিলেন। তবে সাকিব আদালত গরহাজির থাকায় গত ২৪ মে জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আসামি সেলিমের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন লতা বলেন, “মামলার সাক্ষ্য চলে। নয়জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। তবে তার (সেলিম) বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেনি। মূলত মিজানুরের স্বীকারোক্তিতে তার নাম আসায় মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আসামি যেন ন্যায়বিচার পাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status