|
‘তারে পাইলে হাজার দুঃখ-কষ্টেও শান্তি পাইতাম’—চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর পাশে ছিল চিরকুট
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ‘তারে পাইলে হাজার দুঃখ-কষ্টেও শান্তি পাইতাম’—চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর পাশে ছিল চিরকুট মৃত রিমা আক্তার (১৪) আন্ধারুপাড়া গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার মেয়ে। রিমার বাবা ছোটবেলায় মারা যান। এরপর থেকে মা জহুরা বেগম তিন মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। তিন বোনের মধ্যে রিমা ছিল দ্বিতীয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সে গ্রামের একটি ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্প্রতি রিমার বিয়ের জন্য পরিবার থেকে আলোচনা চলছিল। তবে রিমা বিয়েতে রাজি ছিল না। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সে প্রতিবেশী এক তরুণকে পছন্দ করত। ওই তরুণকে বিয়ে করতে না পারার কারণে রিমা আত্মহত্যা করেছে বলে একটি চিরকুটে উল্লেখ পাওয়া গেছে। চিরকুটে রিমা লেখেন, ‘মা-তুমি আরে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তোমার মাথা ধরে যে আমি তোওবা কাটছি। তুমার কিছু হইলো তো আমারে কেউ ছাড়বো না, আমি মরলে কারো কিছু হয়তো না। মা-তুমি শুধু ভাবলা সম্পতির কথা, ভালো সংসার আর টাকা। কিন্তু মা-তুমি কি একবারও ভাবছিলা আমি তারে পাইলে সুখ পাবো। তিনি আরও লেখেন, হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারণ তারে যে আমি ভালোবাসি। তারে ছাড়া যদি তুমরা অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতা, সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম। আমারে মাফ কইরা দিও। এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তুমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না। ইতি, তোমার কপাল পোড়া রিমা। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রিমার মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
