রাতের রান্নার প্রস্তুতির মধ্যেই গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। মুহূর্তেই তা গ্রাস করে একের পর এক ঘর। গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা মধ্যপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪২টি ঘর পুড়ে গেছে। ঘরগুলোর আসবাবপত্র, পোশাকসহ ভাড়াটিয়াদের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিকের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কারখানা ছুটি শেষে সন্ধ্যার পর ভাড়াটিয়ারা বাড়িতে ফিরছিলেন। অনেকে তখন রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় একটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় একপর্যায়ে পুরো বাড়ির বিভিন্ন ঘর আগুনের কবলে পড়ে।
আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, অনেক ভাড়াটিয়া নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
খবর পেয়ে রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে রাত ১১টা ২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৪২টি ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়া স্বপ্না আক্তার বলেন, কারখানার ছুটি শেষে বাড়িতে ফেরার পর হঠাৎ আগুন দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই তাদের ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়।
রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ১১টা ২০ মিনিটে পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।