|
হঠাৎ বৃষ্টিতে মন কেন হয়ে ওঠে অন্যরকম?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() হঠাৎ বৃষ্টিতে মন কেন হয়ে ওঠে অন্যরকম? বৃষ্টি শুধু মাটি ও গাছপালার জন্যই উপকারী নয়, এটি বাতাস, শরীর, মন এবং দৈনন্দিন সুস্থতার ওপরও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বৃষ্টিকে শুধু ভোগান্তি হিসেবে না দেখে এর অন্য দিকগুলোও জানা যাক। বৃষ্টি বাতাস পরিষ্কার করতে পারে বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়ার আগে বাতাসে থাকা অতি ক্ষুদ্র কণা শোষণ করতে পারে। এর মধ্যে ধোঁয়া, দূষণকারী কণা ও বিভিন্ন জৈব পদার্থও রয়েছে।ফলে বৃষ্টি কিছু সময়ের জন্য বাতাসের এসব ক্ষুদ্র দূষিত কণার পরিমাণ কমাতে পারে। অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বাতাস ছেঁকে দেওয়ার মতো কাজ করে বৃষ্টি। অ্যালার্জিতেও মিলতে পারে সাময়িক স্বস্তি ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জিতে ভোগেন এমন অনেকেই বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেন। এর একটি কারণ হতে পারে বাতাসে ভেসে থাকা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী কণার পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে যাওয়া। বৃষ্টির পর বাতাস তুলনামূলক পরিষ্কার থাকায় শ্বাস নিতেও কিছু মানুষের কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে। বৃষ্টির পর মাটির গন্ধ কেন এত ভালো লাগে? বৃষ্টির পর মাটি থেকে যে সোঁদা (শুকনো মাটিতে প্রথম বৃষ্টির মিষ্টি গন্ধ) ও সতেজ গন্ধ আসে, সেটি অনেকের কাছেই বেশ প্রশান্তিদায়ক। বৃষ্টির ফোঁটা গাছপালা ও মাটিতে পড়ার সময় সেখানকার তেলজাতীয় পদার্থ ও অণুজীব থেকে এই বিশেষ গন্ধ তৈরি হয়। বজ্রপাতের সময় বাতাসে ওজোনের গন্ধও মিশতে পারে। বৃষ্টির পরের এই পরিচিত গন্ধ মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে শান্ত অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এর সঙ্গে মানুষের পুরোনো অভিজ্ঞতারও সম্পর্ক থাকতে পারে। অতীতে বৃষ্টি মানেই ছিল পানি ও খাবারের প্রাপ্যতার সম্ভাবনা। তাই বৃষ্টির সঙ্গে স্বস্তির অনুভূতির একটি পুরোনো সম্পর্ক মানুষের মধ্যে থেকে যেতে পারে। বৃষ্টি মনকে শান্ত করতে পারে বৃষ্টির দিনে বাইরে মানুষের চলাচল কমে যায়। চারপাশ তুলনামূলক শান্ত হয়ে ওঠে। এই নীরব পরিবেশ অনেকের জন্য একান্তে থাকার ও মনোযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বৃষ্টিতে হাঁটতে বের হলে চারপাশের শব্দও অন্যরকম লাগে। পায়ের নিচের রাস্তা, ছাতার ওপর পড়া বৃষ্টির শব্দ কিংবা বাতাসের পরিবর্তন—সবকিছুর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। এতে মন বর্তমান মুহূর্তে বেশি কেন্দ্রীভূত হতে পারে। অনেকটা স্বাভাবিকভাবে ধ্যান করার মতো প্রশান্ত অনুভূতিও তৈরি হতে পারে। ঘরে বসেও বৃষ্টি দিতে পারে প্রশান্তি বৃষ্টির প্রভাব পেতে সবসময় বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখা, টুপটাপ শব্দ শোনা কিংবা বৃষ্টির কারণে চারপাশের আলো ও রঙের পরিবর্তন দেখাও অনেকের মনে শান্তি এনে দিতে পারে। বৃষ্টির শব্দের একটানা ছন্দ ও বাইরের তুলনামূলক নীরব পরিবেশ মানসিক চাপ কমানোর জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। শরীরের তাপমাত্রাতেও প্রভাব ফেলে বৃষ্টির কারণে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে যায়। গরমের দিনে ঝড়-বৃষ্টির পর হঠাৎ ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার বিষয়টি অনেকেরই পরিচিত। শরীরের ক্ষেত্রেও তাপমাত্রার এই পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে। ঠান্ডা ও বৃষ্টিভেজা পরিবেশে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োজন হতে পারে। বৃষ্টির সময় কাদা বা পিচ্ছিল পথে হাঁটলেও শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে অতিরিক্ত পেশি ব্যবহার করতে হয়। এতে শরীর কিছুটা বেশি শক্তি ব্যয় করতে পারে। তবে এটিকে ওজন কমানোর কোনো বিশেষ উপায় হিসেবে দেখার কারণ নেই। বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির কাছে যান বৃষ্টির দিনেও নিরাপদ থাকলে বাইরে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানো যেতে পারে। গাছপালা ঘেরা জায়গা, পার্ক বা খোলা পরিবেশে হাঁটা মনকে সতেজ করতে পারে। তবে বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। বৃষ্টি মেনে নেওয়াও এক ধরনের শিক্ষা বৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আবহাওয়া যেমন নিজের মতো বদলায়, তেমনি জীবনের অনেক পরিস্থিতিও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে বিরক্ত হয়ে লড়াই করার বদলে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে তার মধ্যেও ভালো কিছু খুঁজে নেওয়ার অভ্যাস অন্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করতে পারে। তাই পরের বার বৃষ্টি নামলে শুধু ভেজা রাস্তা আর কাদার কথা না ভেবে চারপাশের প্রকৃতি, বৃষ্টির শব্দ, মাটির গন্ধ কিংবা একটু শান্ত সময় উপভোগ করার চেষ্টা করতে পারেন। বাইরে গেলে অবশ্যই বৃষ্টির উপযোগী পোশাক ও ছাতা ব্যবহার করে নিরাপদ থাকতে হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
