|
সার সংকটের কারণ কী? বোরো মৌসুম নিয়ে এখনই শঙ্কা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সার সংকটের কারণ কী? বোরো মৌসুম নিয়ে এখনই শঙ্কা সময়মতো পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় ভুরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের সারের ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান কৃষকরা। শিলখুড়ি ইউনিয়নের পাগলার হাট গ্রামের কৃষক মো. জসিম উদ্দীন ১২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ধান লাগানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে সার দেওয়া লাগে। কিন্তু মাস হইয়া গেলেও সার পাই নাই। পরে বাধ্য হইয়া খোলা বাজার থেইকা বেশি দামে সার কিনছি।” অন্যদিকে রৌমারীর তিলতেলী গ্রামের কৃষক এরশাদুল হক বলেন, “ধান লাগানো শেষ। এখন ধানী জমিতে সার প্রয়োগ করার সময়। কিন্তু সার পাচ্ছি না। পাওয়া গেলেও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।” তিনি বলছিলেন, ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের সরকারি দাম ৫০ কেজির বস্তার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। কিন্তু দোকান থেকে (কালোবাজার) নিতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনা হাট বাজারে বুধবার সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে এক ঘণ্টা পর সার বিতরণে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। শুধু কুড়িগ্রামই নয়, উত্তরের গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চলের মতো সারা দেশেই সারের চাহিদা এখন বেশি। কৃষকরা বলছেন, ধান রোপণের পর থেকে শীষ আসার আগ পর্যন্ত জমিতে কয়েক দফা সার দিতে হয়। সরকারের হিসাবে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। তাহলে সংকটের কারণ কী? কৃষক, ডিলার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সারের সংকটের তিনটি কারণ জানা যাচ্ছে। এগুলো হল-বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, বিতরণ ব্যবস্থায় সমস্যা এবং ডিলারদের একাংশের কালোবাজারি ও অবৈধ মজুদ। তবে ডিলারদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, আগামী নভেম্বরের আলু ও পেঁয়াজ চাষকে কেন্দ্র করেও আগাম সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যে কারণে সারের চাহিদায় চাপ বাড়ছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ইউনিয়নের ডিলার বিমল কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, “পর্যাপ্ত সার পাচ্ছি। আমাদের এখানে সারের সংকট নেই। এ সময়ে কৃষকরা আলু চাষের জন্য অগ্রিম টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার চাচ্ছেন, তাই চাহিদা একটু বেড়ে গেছে। “পেঁয়াজ ও ভুট্টার জন্যও অনেকেই আগে থেকে সার নিচ্ছেন। ফলে সারের ওপর চাপ বাড়ছে।“ এ অবস্থা চলতে থাকলে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদনের মৌসুম বোরোতে সারের বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। বরাদ্দে কতটা গরমিল বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিটের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, রাজশাহীতে কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজারের বেশি। জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর। সেপ্টেম্বর মাসে পুরো জেলার জন্য টিএসপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র এক হাজার ৪৫ টন। এ পরিমাণ সার প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা করে দেওয়া হলে ২০ হাজার ৯০০ কৃষকের সার পাবেন। আর অন্য সারের মধ্যে এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার এক হাজার ৬২৯ টন এবং ডিএপি তিন হাজার ১৫ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. ওছমান আলী বলেন, বর্তমান বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করলে একজন কৃষকের ভাগে আনুমানিক ২ দশমিক ৫ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি ডিএপি পড়ে। কৃষকের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারের বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। রাজশাহীতে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয়। এসব পুকুরের জন্যও সার বরাদ্দ দেওয়ার দাবি তার। তবে সারের সংকট নেই বলে দাবি করেছেন রাজশাহী জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর বাইরে পুকুরে ব্যবহৃত সারের চাহিদা থাকলেও এর জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। এর ফলে কৃষিজমির জন্য বরাদ্দ করা সারের ওপরও চাপ বাড়ার কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক বলেন, “এ কারণে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।” চাহিদা নির্ধারণে সমস্যা সার ও বীজ মনিটরিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সার সংকটের পেছনে কৃষি কর্মকর্তাদেরও দায় আছে বলে মনে করেন। ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়তে পারেন, এ আশঙ্কায় নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি। ওই কৃষি কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা সারের চাহিদার সঠিক পরিকল্পনা করেন না।” উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে হাওরাঞ্চলে চাষ কম। কিন্তু উত্তরবঙ্গ—রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরে এখন পিক টাইম। কিন্তু সারের বরাদ্দ প্রায় একই রকম।” এ ক্ষেত্রে একটি বর্ষপঞ্জি থাকার কথা তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, সেই অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যাচাই করেন না, এমন অভিযোগ তুলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “বছরের শুরুতে সার ও বীজ ব্যবস্থাপনা কমিটি চাহিদাপত্র নেয়। জেলায় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি আছে। উপজেলা থেকে কোন সার কী পরিমাণ দরকার, তার একটি চাহিদা নেওয়া হয়। তার ওপর ভিত্তি করে বর্ষপঞ্জি সাজানো হয় “ চাহিদা হিসেবে সার বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিটির লোকজন যথাযথভাবে যাচাই না করে গতানুগতিক চাহিদা দিয়ে দিচ্ছেন।” এর নেতিবাচক দিক তুলে ধরে ওই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “আমার উপজেলায় নয়টি ইউনিয়ন আছে, প্রত্যেক এলাকায় একইভাবে ধান উৎপাদন হয় না। কিন্তু সারের বণ্টন বা বরাদ্দ প্রায় সমান। অর্থাৎ প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ ও বণ্টনে ঘাটতি আছে।” তার মতে, বিভিন্ন এলাকায় আমন মৌসুম ১০ থেকে ১৫ দিন এদিক-ওদিক হয়। সেইভাবে সার পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অগাস্টেই জব্দের হিড়িক বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছে, কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার অতিরিক্ত দামে বিক্রি, অবৈধভাবে মজুদ, লাইসেন্স ছাড়া সার ব্যবসা এবং ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সার জব্দ করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সার বিক্রির কথা প্রতি কেজি ২২ টাকা দরে। ৫০ কেজির এক বস্তার দাম ১ হাজার ১০০ টাকা। টিএসপির কেজি ২৭ টাকা, বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা। ডিএপির কেজি ২১ টাকা, অর্থাৎ ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা। আর এমওপি সারের কেজি ২০ টাকা, বস্তা ১ হাজার টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে খুচরা বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ সরকারি দামের তুলনায় একেকটি বস্তায় বাড়তি দিতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। ডিএপির ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বস্তায় কৃষকের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল বাজারে ডিলার মেসার্স আফতাব ট্রেডার্স অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছিল। কৃষকদের কাছে ১ হাজার ৫০ টাকা দামের সার ১ হাজার ৫৩০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। গেল ২৭ অগাস্ট ওই উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা অভিযান চালিয়ে বেশি দামে বিক্রির অপরাধে ওই ডিলারকে অর্থদণ্ড দেন। এভাবে দিনাজপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, জামালপুর, মাগুরা ও মানিকগঞ্জে শুধু অগাস্ট মাসেই অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ও অনিয়মের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোরের চৌগাছায় ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি এবং ঈশ্বরগঞ্জে প্রায় ৩২ টন সার অবৈধ মজুদের প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান বলেন, “অভিযান পরিচালনা করলেই কৃষকের বরাদ্দের সার কালোবাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ইউনিয়নে অবৈধ সারের দোকান পাওয়া যাচ্ছে, যারা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।” উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি হলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে ফুলবাড়ীর ইউএনও আহমেদ হাছান মাঠপর্যায়ে সার সংকট তদারকি করতে গিয়ে কয়েকটি কারণ খুঁজে পাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী তার উপজেলায় পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে ২৪ জন ডিলার থাকার কথা। চলতি বছর পর্যন্ত সব ডিলারের দোকান ছিল পৌরসভায়। ফুলবাড়ী পৌরসভা থেকে এলুয়াড়ী ইউনিয়ন ২৫ কিলোমিটার দূরে। ওই এলাকার কৃষকদের ২৫ কিলোমিটার এসে সার নিতে হতো। আরেকটি সমস্যা হল, মূল ডিলাররা ‘সাব-ডিলার’ রাখতেন। এগুলো অনুমোদিত ছিল না। কীটনাশকের দোকানেও সার পাওয়া যাচ্ছিল। তারা মূল ডিলারের নামে সার তুলছিল এবং খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছিল। আরেকটি সংকটের কথা তুলে ধরে আহমেদ হাছান বলেন, বর্তমানে দুই ধরনের ডিলার আছে—বিসিআইসি ও বিএডিসি। কিন্তু বিএডিসির ডিলাররা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পান না। তারা টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি বরাদ্দ পান। কিন্তু প্রত্যেক উপজেলায় বিএডিসির অনেক ডিলার আছেন। মজুদ বাড়লেও সংকট কেন? কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২২ হাজার, টিএসপি ৯ লাখ ১ হাজার ৫০০, ডিএপি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০ এবং এমওপি ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। এছাড়া এনপিকেএস (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও সালফারের সুষম সার), জিপসাম, জিংক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, বোরন ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের চাহিদা ৯ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টন ধরা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ ৮৬ হাজার ১০০ টন সার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে মোট মজুদ ছিল প্রায় ১২ লাখ টন। অর্থাৎ গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে মোট মজুদ প্রায় ৮৬ হাজার ১০০ টন বা ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে কৃষিবিদেরা বলছেন, গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সঠিক দামে সার পৌঁছানো দুটি আলাদা বিষয়। কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. গোলাম রসুল গণমাধ্যমকে বলেন, “যদি জাতীয় পর্যায়ে সারের সরবরাহ ও মজুদ ঠিক থাকে, তবে মাঠপর্যায়ে গ্রামের কৃষকরা সার পাচ্ছেন না কেন? উত্তর হল, সংকটটি সারের অপ্রতুলতার কারণে নয়, বরং এটি আমাদের বিতরণ ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা ও তদারকির অভাবের কারণে সৃষ্ট।” কালোবাজারে বাড়তি টাকায় সার মিলছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে কোথায় কতটুকু স্টক আছে, সেই ডেটা হয়তো কম্পিউটারে দেখা যাচ্ছে; কিন্তু একজন ডিলারের দোকানে কতটুকু সার এল এবং তা কৃষকের হাতে পৌঁছল কিনা, সেই তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত নয়। এই স্বচ্ছতার অভাবের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র ফায়দা লুটছে।” ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির এই অধ্যাপক গণমাধ্যমকে বলেন, “কোনো কোনো কৃষি কর্মকর্তা দায় এড়ানোর জন্য দাবি করছেন, কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় দুই-তিন গুণ বেশি সার ব্যবহার করছেন বলেই সংকট তৈরি হচ্ছে। এ দায় চাপানোর মানসিকতা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। “এত বড় একটা ডিপার্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও যদি তারা কৃষকদের সারের সুষম ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে না পেরে থাকে, তবে তা কৃষকদের অপরাধ নয়; বরং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিজেদেরই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা।” সামনে আরও বড় সংকট? সামনে আরও বড় ধরনের সংকট অপেক্ষা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ গোলাম রসুল তিনি বলেন, “সামনে বোরো মৌসুম আসছে। সেখানে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের সিংহভাগই আসে বোরো ধান থেকে এবং সারা দেশে মোট ব্যবহৃত সারের প্রায় ৬০ শতাংশ একা বোরো মৌসুমেই দরকার হয়। নভেম্বর থেকেই বোরোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।” সতর্ক করে তিনি বলেন, “বর্তমান আমন মৌসুমের সংকটটি যদি আমরা দ্রুত সামাল দিতে না পারি, বর্তমানের আঞ্চলিক বা স্থানীয় সংকটগুলো যদি এখনই কঠোরভাবে প্রশাসনিক উপায়ে দমন করা না হয়, তবে বোরো মৌসুমে পুরো দেশের কৃষি উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়বে।” সরকারের করণীয় বিষয়ে তার পরামর্শ হল- অবিলম্বে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটিকে আরও বেশি সক্রিয় করতে হবে। ডিলারদের সারের মজুদ ও বিক্রির তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে টাঙিয়ে দিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে সার অতিরিক্ত আছে, সেখান থেকে সারের ঘাটতি থাকা এলাকাগুলোতে অবিলম্বে পুনর্বণ্টন করতে হবে। সারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে অসাধু কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
