|
মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে যা বলেছিলেন নুসরাত
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে যা বলেছিলেন নুসরাত রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এ মামলায় রায় দিয়েছিলেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন। খালাস প্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। আলোচিত এ মামলায় রায় ঘোষণার খবর প্রকাশ হতেই নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান। জবানবন্দিতে নুসরাত বলেন, ‘২৭ মার্চ প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত দেন এবং আমি এর প্রতিবাদ করি। প্রতিদিন আমার (নুসরাত) বড় ভাই আমাকে মাদ্রাসায় নিয়ে যান এবং নিয়ে আসেন। ঘটনার দিন আমাকে মাদ্রাসায় নিয়ে এলে আমার বড় ভাইকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর বোরকা ও নেকাব পরা চারজন আমাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল স্যারের বিরুদ্ধে আমার দেওয়া অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি বলি, আমার মৃত্যু পর্যন্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব।’ নুসরাত আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে চারজন আমাকে ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় গ্লাসে থাকা তরলজাতীয় কিছু আমার দিকে ছুড়ে দেয়। এরপর গ্লাসটি আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। তারা আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত চলে যায়। ২৭ মার্চ প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত দেন এবং আমি এর প্রতিবাদ করি।’ নুসরাতের মৃত্যুর পর ‘তাকে হত্যার মামলায়’ বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। বেঞ্চটি ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করেন। এ বেঞ্চে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গত ২৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়েছিল। শুনানি শেষ হয় ২০ আগস্ট। সেদিন রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী আজ রায় দিলেন আদালত। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
