কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, কোথাও একাই একাধিক দায়িত্বে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 22 August, 2026, 10:27 PM
কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, কোথাও একাই একাধিক দায়িত্বে
নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের শপথের পর মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৬ জন ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। আগে মন্ত্রিসভা ছিল ৪৮ সদস্যের—প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী।
তুলনামূলক কম কাজের পরিধির মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাও দায়িত্ব পালন করছেন। আবার কোনো কোনো মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এমনকি কেউ কেউ একাই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একই সঙ্গে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকলেও উপদেষ্টা নেই, আবার কোথাও মন্ত্রী একাই দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনের এই চিত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী থাকার উদাহরণ থাকলেও একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকার ঘটনা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে গত শুক্রবার মন্ত্রিসভায় নতুন করে পাঁচজন সদস্য যুক্ত হওয়া এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী করার পর। ফলে মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৬ জন ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। আগে মন্ত্রিসভা ছিল ৪৮ সদস্যের—প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী।
এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আছেন ১০ জন। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনজন বিশেষ সহকারী আছেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আছেন।
পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে একাধারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সহকারী আছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। তখন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এরপর একাধিকবার মন্ত্রিসভায় দপ্তর পরিবর্তন ও নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়। এখন আবার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হলো। যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা-বিশেষ সহকারী
পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে একাধারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সহকারী আছেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় তিনি একাই সামলাচ্ছেন। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)। প্রথমে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও গত মার্চে তাঁর মতো আটজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো হয়েছিল।
তবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জাহেদ উর রহমান। জাহেদ উর সংস্কৃতি ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি–বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। নতুন তথ্যমন্ত্রী হয়েছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। এখানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন মাহদী আমিন। মাহদী আমিন প্রবাসী ছাড়াও শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। আর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন।
অন্যদিকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রথম দিকে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে দায়িত্ব কমানো হয়।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন মাহদী আমিন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। এই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাইমুম পারভেজ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এ ছাড়া এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে আছেন এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
দুই প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খলিলুর রহমান। এত দিন এই মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন হুমায়ুন কবির। গতকাল তাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শামা ওবায়েদ ইসলামও বহাল আছেন। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী। উপদেষ্টা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ায় এখন আর পররাষ্ট্রে উপদেষ্টা নেই। অন্য মন্ত্রণালয়ে যাঁরা দায়িত্বে
নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মীর শাহে আলম। স্বরাষ্ট্রের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা নেই।
শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য—এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রতিমন্ত্রী নেই।
শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য—এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রতিমন্ত্রী নেই। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. রুহুল কবির রিজভী। আর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মো. শরীফুল আলম।
শেখ রবিউল আলম একাই সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন—এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুর রশীদ। আর নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মো. রাজিব আহসান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নেই।
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (এ জেড এম জাহিদ হোসেন) সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজকল্যাণে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এই দুই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নেই।
এত দিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। গতকাল গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন) এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই মন্ত্রণালয়ে কোনো উপদেষ্টা নেই।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। মীর মোহাম্মদ হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হয়েছেন সাচিং প্রু জেরী।
এত দিন আফরোজা খানম ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আর প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং উপদেষ্টা ছিলেন হুমায়ুন কবির। এখন আফরোজা খানমকে বিমান থেকে সরিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আর রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পদোন্নতি দিয়ে বিমানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি এখন একাই সামলাবেন এই মন্ত্রণালয়।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আসাদুল হাবিব দুলু এবং প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। এত দিন নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান একাই মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন ফকির মাহবুব আনাম। এই দুই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন রেহান আসিফ আসাদ।