|
২০২১ সালে ৯৩%, ২০২৬ সালে ৬২%: ছয় বছরে এসএসসিতে পাসের হার কমেছে ৩১%
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ২০২১ সালে ৯৩%, ২০২৬ সালে ৬২%: ছয় বছরে এসএসসিতে পাসের হার কমেছে ৩১% ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬ জন। ওই বছর গড় পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন। পরের বছর ২০২২ সালে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। গড় পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে দাঁড়ায়, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ২০ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০ জন। পাস করে ১৬ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী। ওই বছর গড় পাসের হার আরও কমে ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমে আসে। জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। ২০২৪ সালে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। ওই বছর গড় পাসের হার কিছুটা বেড়ে ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়। তবে ২০২৫ সালে আবার বড় ধরনের পতন দেখা যায়। ওই বছর মোট ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। গড় পাসের হার নেমে আসে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ বছর গড় পাসের হার আরও কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, 'কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, এবার তা নেমে এসেছে ৬৫ শতাংশে।' তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পাসের হার কমলেও এবারের ফলাফল তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত। প্রথমবার পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়া সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কঠোর নজরদারি করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি তদারকির পাশাপাশি অসদুপায় ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে নিয়মিত পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা ভালো করার সুযোগ পেলেও প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সমস্যায় পড়েছে। শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমেদ বলেন, 'এর পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। বিশেষ তদারকি ও মানোন্নয়নের উদ্যোগ যেমন একটি কারণ হতে পারে, তেমনি স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ ও পরিবেশের সমস্যাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।' তিনি বলেন, 'পরীক্ষার ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য, তা বুঝতে প্রতিবছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে। শিক্ষার্থী মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের গবেষণা নিয়মিত হয় না।' তিনি আরও বলেন, 'পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগের পার্থক্যগুলো পর্যালোচনা না করে শুধু পাসের হার কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কারণগুলো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেই এ পতনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে।' উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ২০ জুলাই এসএসসির ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাসের হারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এরপর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ ছাড়া দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। অন্যদিকে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
